
পূর্ব মেদিনীপুর: ছেলের জীবনের বড় পরীক্ষা। তমলুকের স্কুলে পড়েছে সিট! বাবা-মা দুজনে ছাড়তে গিয়েছিলেন ছেলেকে। ছেলেকে হলে পর্যন্ত ঢুকিয়ে এসেছিলেন। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর রওনা দেন বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু ফেরার পথেই বাড়িতে এল খবর।
স্কুটিতে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পরীক্ষার্থীর বাবা-মা। পিষে গিয়েছে পরীক্ষার্থীর মায়ের মাথা। বাবাও গুরুতর জখম। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তমলুকের দিক থেকে পাঁশকুড়ায় ফেরার পথে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পারমিতা সামন্ত। আহত তাঁর স্বামী পেশায় পুলিশ কর্মী সূর্য সামন্ত।
সূত্রের খবর, ওই দম্পতি তমলুকের দিক থেকে পাঁশকুড়া আসার সময় চাঁপাডালির অদূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে । পেছনের দিক থেকে আসা ঘাটাল পাঁশকুড়া বাস এসে ধাক্কা মারে। পড়ে যান দম্পতি। মাথায় হেলমেট থাকলেও ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয় দু’জনের ।এই দুর্ঘটনায় আহত সূর্য সামন্ত এবং তার স্ত্রী পারমিতা সামন্তকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করেন । ঘটনাস্থলে যায় পাঁশকুড়া ট্রাফিক পুলিশ। আহতদের পাঁশকুড়া বড়মা হাসপাতাল এ নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় পারমিতা সামন্তের। আহত সূর্য সামন্ত বড়মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ছেলে সম্রাট সামন্ত এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তমলুক হ্যামিল্টন হাই স্কুলের ছাত্র সে। আর তার সঙ্গেই দেখা করতে গিয়েছিলেন সূর্য সামন্ত এবং তাঁর স্ত্রী ।বাড়ি পাঁশকুড়ার মহৎপুরে। ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকার মেধাবী ছাত্র সম্রাট। কিন্তু মায়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সে। বাংলা দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা দিচ্ছে ও। মেয়ে নার্সিং পড়ুয়া, কলকাতায় পড়াশোনা করেন তিনি। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া।