Indian Railways: জুড়তে পারত নয়া দিঘা-তমলুক! মমতার প্রস্তাবিত রেলপ্রকল্প আটকে রাজ্যেরই কারণে! বড় অভিযোগ রেলের
Nandigram: দক্ষিণ পূর্ব রেলের কর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় চার থেকে পাঁচবার চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। শেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে গত ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু একটারও উত্তর আসেনি বলে অভিযোগ রেলের। শুধুমাত্র জমির কারণে গোটা রেল প্রকল্প এখন অথৈ জলে। অথচ নন্দীগ্রামের এই রেল প্রকল্পের জন্য প্রায় ২১০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম: জমি জটে আটকে রেলপ্রকল্পের কাজ। রাজ্য প্রশাসনের অসহযোগিতার দিকে আঙুল তুলেছে রেল। জমি জটের কারণে নন্দীগ্রাম দেশপ্রাণ প্রকল্পের কাজ থমকে আছে বলে রেল সূত্রে খবর। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কি এই প্রকল্পকে অথৈ জলে ঠেলে দিচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন। মূলত, ২০১০ সালে জানুয়ারিতে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম দেশপ্রাণ রেলপ্রকল্পের সূচনা করেন। সাড়ে আঠারো কিলোমিটার রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে রেল। ৮৯৩টি প্লট অধিগ্রহণ করতে পারলেও বাকি ১৩৯টি প্লট এখনও হাতে পায়নি রেল।
বস্তুত, বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের স্বপ্নের রেল প্রকল্প নিয়ে। কিন্তু তাতে কোথাও কার্যত দাঁড়ি পড়ে যাওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে। নন্দীগ্রামের এই ১৮.৫ ইনি প্রকল্পের মধ্যে সরাসরি রেল পরিষেবা পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজন ছিল ১০৩৩ প্লট জমির। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৮৯৩ প্লট জমি দক্ষিণ-পূর্ব জোন রেল অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হলেও বাকি ১৩৯ প্লট জমি রাজ্যের কাছে বারবার করে আবেদন করেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। দক্ষিণ পূর্ব রেল সুত্রে খবর, এই ১৩৯ প্লট জমির মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রয়েছে ৯৮ প্লট এবং বাকি ৪৫ প্লট রয়েছে রাজ্য সরকারের। এগুলির কোনওটিই পাওয়া যাচ্ছে না বলে রেলের তরফে সরাসরি রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।
এই রেলপ্রকল্প হলে কী কী সুবিধা হবে?
এই রেল প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে দেশপ্রাণ স্টেশনের মাধ্যমে দিঘা-তমলুক লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এছাড়া দিঘা-তমলুক রেল রুটকে দেশপ্রাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হবে। নন্দীগ্রামে সরাসরি রেল পরিষেবা পৌঁছে যাবে।
দক্ষিণ পূর্ব রেলের কর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় চার থেকে পাঁচবার চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। শেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে গত ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু একটারও উত্তর আসেনি বলে অভিযোগ রেলের। শুধুমাত্র জমির কারণে গোটা রেল প্রকল্প এখন অথৈ জলে। অথচ নন্দীগ্রামের এই রেল প্রকল্পের জন্য প্রায় ২১০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে।
দক্ষিণপূর্ব রেলকর্তাদের বক্তব্য, অধিগৃহীত জমিগুলিকে নতুন করে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর নন্দীগ্রামের দিক থেকে দেশপ্রাণ অভিমুখে কাজ শুরু হয়ে যাবে। কত দিনে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ?শাসক দল অবশ্য রেল প্রকল্পের এবং আটকে রাখার বিষয়টি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে এড়িয়ে গিয়েছে।বিজেপির অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতাকে কোনও মতেই প্রচার দিতে চাইছে না তৃণমূল সেই কারণেই এই ধরনের অসহযোগিতা।
দক্ষিণ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অনিল কুমার মিশ্রা বলেন, “জমি না পাওয়ার কারণে এবং লোকাল লোকজনের বাধার কারণে প্রোজক্টে দেরী হচ্ছে। খুবই সমস্যা হচ্ছে।”
