
পূর্ব মেদিনীপুর: আনন্দপুরে বিধ্বংসী আগুন। আসছে একের পর এক মৃত্যুর খবর। আর এই আনন্দপুরেই কাজে গিয়ে নিখোঁজ পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রমিক সন্দীপ মাইতি। তাঁর বাড়ি নন্দকুমারে। এখনও কোনও খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে আনন্দপুরের একটি নামজাদা মোমোর কারখানায়। পরবর্তীতে জানা যায়, শুধুই মোমো নয়,তার আশেপাশে ছিল আরও বেশ কিছু কারখানা। সেখানেও ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। শুধু সন্দীপ নন, সূত্রের খবর এখানে কাজে গিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অনেকেই। তাঁদেরও খোঁজ মিলছে না। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দুই পরিবার ইতিমধ্যেই আনন্দপুর পৌঁছে গিয়েছে। নন্দকুমারের বরগোদার সন্দীপ মাইতি ওই কারখানার লেবার ঠিকাদার ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর খোঁজে ইতিমধ্যেই আনন্দপুর পৌঁছছেন তার স্ত্রী। বাড়িতে রয়েছেন বোন শ্রাবণী মাইতি। তিনি বলছেন, রবিবার রাত ১০টার সময় শেষবার কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁর কাতর আর্জি প্রশাসন দ্রুত তাঁর দাদাকে খুঁজে বের করুক।
আনন্দপুরে যেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেখানে রয়েছে একটি ফুলের ডেকোরেটিংয়ের কারখানাও। সেখানে কাজ করতেন প্রবীর মাইতি। একদিন আগে মেদিনীপুরের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তিনি বলছেন, যে কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেখানে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। প্লাইউড, কাঠ সবই ছিল। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ছিল না কোনও ঠিকঠাক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। তাহলে কী দেখভালের অভাব ছিল? প্রবীরের কথায় সেই প্রশ্নই ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।