Migrant Worker: বাংলা বলায় ছত্তিসগঢ়ে বাংলার ৮ পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ, সরব তৃণমূল

Migrant Worker of Bengal: পুরুলিয়ার মফস্বল থানার চেপরি গ্রাম এবং আরশা থানার ভূর্ষা গ্রাম থেকে ওই ৮ জন শ্রমিক ছত্তিসগঢ়ের সুরজপুর থানা এলাকার ‘মা দুর্গা’ নামক একটি বেকারিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। গতকাল সকালে ৩ জন শ্রমিকের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। বাকিরাও ছুটির আবেদন জানালে বেকারির মালিক পাওনা মিটিয়ে সবাইকে ছেড়ে দিতে রাজি হন।

Migrant Worker: বাংলা বলায় ছত্তিসগঢ়ে বাংলার ৮ পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ, সরব তৃণমূল
চাপানউতোর প্রশাসনিক মহলেও Image Credit source: TV 9 Bangla

| Edited By: জয়দীপ দাস

Jan 06, 2026 | 7:18 PM

পুরুলিয়া: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও মারধরের শিকার হলেন পুরুলিয়ার ৮ জন শ্রমিক। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ছত্তিসগঢ়ে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন নাবালকও রয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বাড়ির মুখ দেখেন তাঁরা। তীব্র আতঙ্কের আবহেই আর ভিন রাজ্য যেতে চাইছেন না তাঁরা। 

পুরুলিয়ার মফস্বল থানার চেপরি গ্রাম এবং আরশা থানার ভূর্ষা গ্রাম থেকে ওই ৮ জন শ্রমিক ছত্তিসগঢ়ের সুরজপুর থানা এলাকার ‘মা দুর্গা’ নামক একটি বেকারিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। গতকাল সকালে ৩ জন শ্রমিকের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। বাকিরাও ছুটির আবেদন জানালে বেকারির মালিক পাওনা মিটিয়ে সবাইকে ছেড়ে দিতে রাজি হন। অভিযোগ, এরইমধ্যে সোমবার দুপুরে আচমকাই একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে বেকারিতে চড়াও হয়। শ্রমিকদের পরিচয় এবং বাড়ি কোথায় জানতে চায় তারা। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গ শুনেই, তাঁদের বাংলা কথা শুনে যুবকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে গালিগালাজ করা হয়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু হয়। খবর পেয়ে সুরজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

আক্রান্তদের মধ্যে আসলাম শেখ, শেখ জাসমিন, শেখ বেবী, শেখ জুলফিকার, শেখ শাহী আরবাজ কাজীদের বাড়ি মফস্বল থানার চেপরী গ্রামে। এদের মধ্যে শেখ শাহী আরবাজ কাজী নাবালক। শেখ মীনার ও শেখ ইসমাইল তাদের বাড়ি আরশা থানার ভূর্ষা গ্রামে। বাড়ি ফেরা শ্রমিকরা এতটাই আতঙ্কিত যে তাঁরা আর ভিন রাজ্যে কাজে যেতে চাইছেন না। তাঁদের আবেদন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন জেলাতেই তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। এমন কিছু কাগজপত্র করে দেওয়া হোক যাতে তাদের ভিন রাজ্যে গিয়ে তাঁদের কোনও বিপদে পড়তে না হয়। 

পরিযায়ী হেনস্থায় স্বভাবতই সরব হয়েছে শাসকদল। তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি আজিম আনসারী বলেন, “উত্তরপ্রদেশের পর এবার ছত্তিসগঢ়েও ডবল ইঞ্জিনের সরকারের মদতে বিজেপি ও আরএসএস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বাংলায় অনেকেই হিন্দিতে কথা বলেন, আমরা তো তাঁদের মারধর করি না। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য কেন আমাদের রাজ্যের মানুষের ওপর অত্যাচার হবে?”