
পুরুলিয়া: দার্জিলিং বা কাশ্মীর নয়! এবার পুরুলিয়াতেই তুষারপাত! রেকর্ড শীতের দাপটে জঙ্গলমহলের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই নীচে। কয়েকদিন আগে কোল্ড ডে বা শীতল দিনের অ্যালার্টও জারি করা হয়েছিল। তবে এত ঠান্ডা যে বরফ পড়বে! এতটা আশা করেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। সাত সকালে উঠে খড়ের গাদার দিকে তাকিয়ে চমকে গেলেন এলাকাবাসী।
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই জাঁকিয়ে শীত পড়েছে পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়ায়। সঙ্গে চলছে শৈত্য প্রবাহ। তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ৫-৬ ডিগ্রিতে। আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করতে হয়েছে মানুষজনকে। এরই মধ্যে চোখে পড়ল ভূমি তুষার।
শনিবার বান্দোয়ানের পাহাড়-জঙ্গলঘেরা ডাঙ্গা এলাকায় দেখা যায় ভূমি তুষার। রবিবারও দেখা গেল একই ছবি। ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার রাস্তার ধারের খড়ের গাদার উপরে জমে রয়েছে সাদা আস্তরণ। যা দেখে রীতিমত চমকে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই দৃশ্য নজরে আসে বলে জানান এলাকার বাসিন্দা বিমল কুইরি, ঠাকুরদাস মাহাত, সত্যনারায়ণ স্বর্ণকারেরা।
তাঁরা কাছে গিয়ে দেখেন, খড়ের উপর সাদা আস্তরণ আসলে ভূমি তুষার। অস্বাভাবিক এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমাতে দেখা যায় এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলতি মরশুমে শীতের তীব্রতা রেকর্ড ছুঁয়েছে। তাঁদের কথায়, “কাশ্মীর বা দার্জিলিং নয়, ঝালদাতেই যেন বরফ উপভোগ করছি।” অন্যদিকে, প্রবল ঠান্ডায় দুর্ভোগে পড়ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। সকালে বাড়ি থেকে বেরনো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান বাসিন্দারা।
পুরুলিয়ার যা তাপমাত্রা তাতে সাধারণত বরফ পড়ে না। এর আগে ২০১৯ সালেও একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল বরফের আস্তরণের ছবি। সেবার বেগুনকোদরে বরফের ছবি দেখা গিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা এই বরফকে বলে থাকেন ‘ফ্রস্ট’। সাধারণত তাপমাত্রা হঠাৎ নেমে গেলে এভাবে জলীয় বাষ্প সূক্ষ বরফের কণা হিসেবে জমে যায়।