
বাসন্তী : বাড়িতে পানীয় জল নেই। তাই সকাল সকাল কলে জল আনতে গিয়েছিলেন দুই জা। কিন্তু, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় কে ভেবেছিল, তাঁদের জন্য় বড় বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে। জল নিয়ে বাড়ি ফেরা তো হলই না। উল্টে ছুটতে হল হাসপাতালে। পানীয় জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল বাসন্তীর ধুরি ৭ নম্বর উত্তর চরপাড়া এলাকা।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে পানীয় জল নেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল বচসা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। অভিযোগ, বিবাদ চলাকালীন লোহার সাবল ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার জেরে একই পরিবারের চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর। আহতরা হলেন আব্বাস খান, শাহনাজ খান, সাব্বাস খান এবং ফজিলা খান। ঘটনার পর তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে আব্বাস খানের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। লোহার শাবলের আঘাতে তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। একাধিক সেলাই পড়েছে। বাকিরাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কী ঘটেছিল?
শাহনাজ খান জানিয়েছেন, আজ সকালে দুই জা মিলে পানীয় জল আনতে গিয়েছিলেন। সেইসময় তাঁরা দেখেন, লাগোয়া যে বাড়ি রয়েছে, সেই পরিবারের মানুষরা কলে কাজ করছেন। বাসন ধুচ্ছেন, বাচ্চাদের স্নান করাচ্ছেন। শাহনাজের দাবি, সেইসময় তাঁরা পানীয় জল নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁরা পানীয় জল দিতে অস্বীকার করেন। দাবি তোলেন, এটা তাঁদেরই কল। আর তাতে একমাত্র অধিকার রয়েছে তাঁদেরই। তারপরই দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। বিবাদ চলাকালীন হঠাৎ-ই করিম খান, সাইরুল খান, কুমির আলি খান এবং সাইদুল খান লোহার শাবল ও লাঠি নিয়ে ছুটে আসেন। হঠাৎই আব্বাস খানের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে মহিলাদের লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। তারপর তাঁর পরিবারের লোকেরা আসতেই, তাঁদের উপরও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। শাবল, লাঠির আঘাতে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরা।
ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা।