
ব্যারাকপুর: হাইভোল্টেজ ভাবনীপুরেই মমতাকে প্রচারে ‘বাধা’? খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোর মুখেই অভিযোগের সুর। আক্রমণ রিটার্নিং অফিসারকে। দাগলেন তোপের পর তোপ। এমনকী ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ছাপ্পা ভোট করা হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মমতা। ব্যারাকপুর লুমটেক্স জুটমিলের সভা থেকে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, “এত বড় সাহস যে গদ্দার একজনকে ভাবনীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে এনেছে। সে বলছে না অনুমতি দেব না। আমি দেখব ভোটের পরে তোমাকে বিজেপি গভর্নর করে নাকি রাষ্ট্রপতি করে! তুমি থাকো তো বারুইপুরে। তোমাকে আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম। তোমার তো রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতা নেই। তুমি আমাকে অনুমতি না দিয়ে আটকাবে? আমি মিটিং করব না। কিন্তু আমি চা খেতে তো যেতে পারি। সাহস থাকলে তুমি আমার চা খাওয়া বন্ধ করো তো! আমার মিটিং করার দরকার নেই আমি একটা রাস্তায় গিয়ে বসলেই সব চলে আসবে। ইটের জবাব আমি পাটকেলে দিই।”
এরপরই একেবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ছাপ্পা ভোটের আশঙ্কাও করতে দেখা যায় তাঁকে। শোনা যায় তিন ওয়ার্ডের কথা। আশঙ্কার সুরেই বলেন, “নির্বাচনের দিন তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে। ৭৪, ৭৭ আর ৬৩। ফোর্স লাগিয়ে ছাপ্পা করবে! এমন ধাপ্পা দেব না বুঝবে ঠ্যালা। ধোকার ডালনা খাওয়াব আর বিচুটি পাতার ঝোল খাওয়াব, আর নিমপাতার চাটনি খাওয়াব।” এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “তুমি আমাকে চেনো না! যেখানে তুমি গন্ডোগোল করবে আমি গিয়ে হাজির হব। আটকাও আমাকে! আমাকে তুমি ব্যান করবে? ব্যান করলে সারা পৃথিবীতে আমাকে দেখাবে। আমি ঘরে সত্যাগ্রহ করব। সারা দেশে তোলপাড় হবে। আর তোমারদের হল্লাবাজি, হল্লার দলকে আমি ঘরে ঢুকিয়ে ছাড়ব। এটা আমার প্রতিজ্ঞা।”
পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে বিজেপির তরফে। নেতারা বলছেন, হারের আশঙ্কা থেকেই এইসব বলছেন মমতা। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আসলে এটা ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। হারের ভয় পেয়েছেন। উনি বুঝতে পারছেন পায়ের তলা থেকে মাটি দিনের পর দিন সরে যাচ্ছে। নাহলে কেউ নিমপাতার চাটনি খাওয়ার কথা বলে না। বুঝতে পারছি, বলতে বাধ্য হচ্ছি আমাদের বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মাথা অপ্রকৃতস্থ হয়েছে। আমি বলব ভোট প্রচার শেষ হলে বিশ্রাম নিয়ে ভাল করে ডাক্তার দেখাতে।”