
সোনারপুর: প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই তুঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপ। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে জোর শোরগোল। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লাভলি মৈত্রর নাম ঘোষণা হওয়ার পরপরই সেখানে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ভাঙন। মঙ্গলবার রাজপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপি, সিপিএম ছেড়ে আসা একঝাঁক কর্মী-সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে শাসকদলে যোগদান করেন। নির্বাচনের ঠিক মুখে এই দলবদল নিয়েই এখন চর্চা জেলার রাজনৈতিক মহলে।
এদিন নবাগতদের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন লাভলি। এই যোগদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত কয়েক বছরের অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জোয়ার দেখেই সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী দলের কর্মীরা আজ তৃণমূলে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের উপর মানুষের এই অগাধ ভরসাই আগামী নির্বাচনে জয় সুনিশ্চিত করবে বলে তাঁর দাবি। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামীতেও পুরোদমে এই যোগদান পর্ব চলবে বলেই তাঁর দাবি।
বিজেপি থেকে এসেছেন প্রাক্তন বুথ সভাপতি নিরুপম রায়। তিনি বলছেন, তাঁর সঙ্গেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সক্রিয় কর্মী এদিন পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, বাম কর্মী শেখর মান্নাও একই সুরে বলেন, আগামী দিনে মানুষের জন্য আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন।
নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক পরেই সোনারপুর দক্ষিণে এই গণ-যোগদান স্বাভাবিকভাবেই ঘাসফুল শিবিরকে যে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের লড়াই শুরু হতেই ঘর গুছিয়ে নিয়ে বিরোধীদের উপর চাপ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন লাভলি মৈত্র। অন্যদিকে, ভোটের মুখে এই ভাঙন বিরোধী দলগুলির কাছেও যে যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।