
ভাঙড়: তিনি যে দল ছাড়ছেন তা আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। তৃণমূলের প্রতি অভিমানের কথাও বলেছিলেন প্রকাশ্যেই। তারপর থেকেই তার দলবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। শোনা যাচ্ছিল আইএসএফে তাঁর যোগদান শুধুই সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে বৃহস্পতিবারই আইএসএফে যোগ দিতে চললেন তিনি। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ দক্ষিণ গাজীপুরের বাড়ি থেকে ফুরফুরা শরীফের উদ্দেশ্যে বার হন আরাবুল ইসলাম।
ফুরফুরা যাওয়ার পথেও পুরনো দলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। বললেন মন খারাপের কথা। সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ন্যায় বিচার করেনি, অনেক খুব অভিমান নিয়ে আজকে আইএসএফে জয়েন করছি। আমার জয়নিংয়ের ফলে ভাঙড়, ক্যানিংয়ের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বহু কর্মী ধীরে ধীরে আইএসএফে যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।
তবে তাঁর মুখে অভিমানের কথা শোনা গিয়েছে আগেও। কয়েকদিন আগেই একেবারে দলের সুপ্রিমোর প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অনশন করেন, তখন ২৬ দিনই আমি সেখানে ছিলাম। কঠিন পরিস্থিতিতে দলটা করেছি। সেই দল আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না। কোনওভাবে তাঁরা বুঝতে পারল না। তাই মনের দুঃখে তৃণমূল থেকে বিদায় নিচ্ছি।” অবশেষে বিদায় নিলেন আরাবুল।
অন্যদিকে বুধবার রাতে আবার ভঙড়ের চালতাবেড়িয়ায় বোমা বিস্ফোরণের খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলেকায়। অনেকেই আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। আহত আইএসএফ নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইএসএফের। চালতাবেড়িয়ার তৃণমূল নেতা অহিদুল মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই অহিদুল আবার শওকত মোল্লার অনুগামী বলে পরিচিত। শওকতকে এবার ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তা নিয়েও দলের অন্দরে বিস্তর চাপানউতোর চলছে। শোনা যাচ্ছে এই ভাঙড় থেকেই আইএসএফের টিকিটে শওকতকে কড়া টক্কর দিতে পারেন এক সময়ের তৃণমূলের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল।