Satgachhia: ‘তোকে ১২ হাজার টাকা দেবে বলে মনে হয় না’, পুরোহিতকে শুধু একথা বলেই বাবাকে হারালেন যুবক
জানা গিয়েছে, পুরোহিত মৃণালকে বিদ্যুৎ প্রশ্ন করেছিলেন, 'তুই বর্ণালী সঙ্ঘে পুজো করছিস?', পুরোহিত 'হ্যাঁ' বললে বিদ্যুৎ জানতে চান, 'কত টাকা দেওয়ার কথা হয়েছে?' পুরোহিত জানান, ১২ হাজার টাকা। এই কথোপকথন যে এতদূর পৌঁছবে, তা কে জানত!

সাতগাছিয়া: দুর্গাপুজোর মধ্যে খুনের ঘটনা! ছেলের একটা কথোপকথনের জন্যই খুন হতে হল এক ব্যক্তিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ার ঘটনা। পেশায় পুরোহিত মৃণাল ঘোষাল ও তাঁর বন্ধু তথা এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ প্রামাণিকের মধ্যে গত মঙ্গলবার, নবমীর রাতে কথোপকথন হয়। সেই ঘটনার জেরেই বুধবার দুপুরে মৃত্যু হল বিদ্য়ুতের বাবার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভার অন্তর্গত হালদার পুকুর এলাকার ঘটনা। মৃণাল ঘোষালের কথোপকথনের জেরে যে এমন একটা ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করেননি বিদ্যুৎ।
কী সেই কথোপকথন? জানা গিয়েছে, পুরোহিত মৃণালকে বিদ্যুৎ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুই বর্ণালী সঙ্ঘে পুজো করছিস?’, পুরোহিত ‘হ্যাঁ’ বললে বিদ্যুৎ জানতে চান, ‘কত টাকা দেওয়ার কথা হয়েছে?’ পুরোহিত জানান, ১২ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ তখন তাঁকে বলেন, ‘পেলে বলিস। আমার মনে হয় না যে দেবে।’ পুরোহিত এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সদস্যদের জানান দশমীর দিন সকালে।
এ কথা শুনেই বিদ্যুতের উপর ক্ষুব্ধ হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎতের খোঁজ শুরু হয় এলাকায়। তাঁকে ফোন করে ধমক দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ। বিদ্যুৎ ‘ভুল করেছি’ বলে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
এরপর ক্লাবের মদ্যপ যুবকেরা বিদ্যুৎতের বাবা সঞ্জয় প্রামাণিককে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। সঞ্জয় প্রামাণিকের চীৎকার শুনে এলাকার লোকজন ও পরিবারের লোকজন ছুটে যায় ও ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সামালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ঘটনাস্থলে যায় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
