
কুলতলি: বিয়ের আয়োজন হয়ে গিয়েছিল। পাত্র এসে হাজির। বরপক্ষের লোকজনও উপস্থিত বাড়িতে। হঠাৎ সব পণ্ড! অতিথি-আত্মীয়রা দেখলেন বাড়ির সামনে এসে হাজির হয়েছে পুলিশের গাড়ি। নেমেই পাত্রীর বাবার খোঁজ শুরু করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বিয়ে তো দূর, সোজা পুলিশের গাড়িতে চেপে থানায় যেতে হল পাত্র ও পরিবারের সদস্যদের। মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির ঘটনা। নাবালিকাকে বিয়ে করতে গিয়েই বিপাকে পড়েছেন পাত্র। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান ওই যুবক। জয়নগর থানার বহড়ু এলাকার বাসিন্দা আরিফুল মোল্লার সঙ্গে কুলতলি এলাকার এক নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে পাত্রীর বয়স ১৮ পেরোয়নি। খবর পেয়ে সোমবার রাতে পুলিশ হাজির হয় ওই বাড়িতে। শিশু কল্যাণ দফতরের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ে আটকে দেয়।
এই ঘটনায় ২২ বছরের আরিফুল মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, নাবালিকার বয়স যে কম, তা তিনি জানতেন না। সেই সঙ্গে ওই নাবালিকার বাবা, জ্যেঠু, পাত্রের মামা এবং দুই পরিবারের মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কুলতলি থানার পুলিশ। নাবালিকাকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা চলছে, জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কি না।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নাবালিকা বিবাহ রোধে সচেতনতা প্রচার চালানো হলেও গ্রামগঞ্জে এখনও এই ধরনের বেআইনি ঘটনা ঘটে চলেছে। আইন অমান্য করে নাবালিকার ভবিষ্যৎ এভাবে নষ্ট করার প্রচেষ্টায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। নাবালিকার বাবাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। যদি কোনও কলঙ্ক হয়ে যায়। তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলাম।” ধৃতদেরকে আজ মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।