
সোনারপুর: শীতকালে বন্ধুরা মিলে পিকনিকের আয়োজন করে থাকেন অনেক জায়গায়। সেরকমই পিকনিক করতে গিয়েছিলেন একদল যুবক। সেই পিকনিকে যে কী ঘটল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। তাঁদের গাড়ি থেকে রাস্তায় এক বৃদ্ধের মৃতদেহ নামাতে দেখে চমকে ওঠেন সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের নিষেধ করলেও কোনও লাভ হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ যুবককে আটক করে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার অন্তর্গত ঘাসিয়াড়া এলাকায়। অভিযোগ, পিকনিকে আসা এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর দেহ রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন সঙ্গীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় বিষয়টি সামনে আসে। এলাকাবাসীর সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ঘটনাস্থলে থাকা সকলকে আটকে রেখে সোনারপুর থানায় খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তির দেহ শক্ত হয়ে গেলেও যুবকরা অস্বীকার করেন। তাঁরা দাবি করেন, ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন, চোখে-মুখে জল দিতে এসেছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। মৃত ব্যক্তির নাম ক্ষুদিরাম মণ্ডল (৬০)। তিনি টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়িচালক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা বুদ্ধদেব দাস জানান, একটি গাড়িতে করে আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তির সঙ্গে এসেছিলেন এবং দেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ হয় তাঁর। অপর প্রত্যক্ষদর্শী প্রবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, একটি ম্যাটাডোর ও দুটি বাইক নিয়ে ওই যুবকরা হাজির হন। তাঁর অভিযোগ, সকলেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
ঘটনার পর পুলিশ ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করেছে। তবে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।