
ভাঙড়: সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই টাকা পেতেও শুরু করেছেন গ্রাহকরা। ভোট বৈতরণী পার করতে এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বড় হাতিয়ার বলে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে ভাতাবৃদ্ধি হওয়ার ঘোষণাকে তৃণমূল প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এই আবহে সেই ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গেল তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে।
ভাঙড়ে এক সভাস্থলে দাঁড়িয়ে শওকত মোল্লার হুঁশিয়ারি দেন, আসন হারালে সরকারি পরিষেবা বা অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকী যেখানে যেখানে হেরেছেন, সেখানে সরকারি টাকা বন্ধ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, “ভাঙড়ের যে তিনটি অঞ্চলে হেরেছি, সেখানে সরকারি ঘরের টাকা বন্ধ করে দিয়েছি। বাপের ব্যাটা হলে সেই টাকা উদ্ধার করে নাও। দেখব কত বড় বাপের ব্যাটা।” মঞ্চ থেকে শওকত আরও বলেন, “দাদার খাবে আর মামার গাইবে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা দেবেন আর তাঁকে নিয়ো সমালোচনা হবে?”
সিএমআরও-তে যে সব আইএসএফ কর্মীদের নাম এসেছে, তারা যেন টাকা না পায়, সেই বার্তাও এলাকার তৃণমূল কর্মীদের দিয়েছেন শওকত। আগামিদিনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শওকত। ভাঙড়ের প্রানগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রস্তুতি সভা থেকেই এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন শওকত মোল্লার। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া, শানপুকুর ও পোলেরহাট ১ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস আইএসএফের কাছে হেরেছিল।
শওকত মোল্লার এই বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকী ক্যানিং পূর্বের বিধায়কের পাশে নেই তৃণমূলও। তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ পরিষ্কার বলেন, “এটা দলের অবস্থান নয়। উনি ব্যক্তিগত স্তরে বলছেন। আমরা তো আলিপুরদুয়ার, পূর্ব মেদিনীপুরের অনেক আসনেও হেরেছি। সেখানেও তো সরকারি পরিষেবার টাকা দেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে নিশ্চয় কথা বলা হবে।” এদিকে, বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “এবারের ভোটে তৃণমূল হেরে গেলে এই সব নেতাদের বাড়িকেও শৌচালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”