
উত্তর দিনাজপুর: কংগ্রেসের মোহিতে ‘মোহিত’ সুকান্ত! ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে কি তবে নতুন কোনও সমীকরণ? উত্তর দিনাজপুরের জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনও রাখঢাক না রেখেই কংগ্রেসের জেলা সভাপতিকে বিজেপিতে চাইলেন বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। শুধু তাই নয়, সুকান্তর মুখে বাংলার ভোট আবহে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হল ‘ফিশ ফ্রাই’ রাজনীতি। সুকান্তর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে গেলে নবান্নে দিয়ে ফিশ ফ্রাই খেলে চলবে না। নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরতে হবে। মোহিত সেনগুপ্ত-সহ কংগ্রেসে যাঁরা ভাল, তাঁরা বিজেপিতে আসুন। সঙ্গে আবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারেরও নাম নেন তিনি। তবে তা নেতিবাচকভাবেই। তাঁর কটাক্ষ, “শুভঙ্কর সরকারকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।”
ফিশ-ফ্রাই রাজনীতি
নবান্নে বিমান বসু-সহ বাম নেতাদের আপ্যায়নে প্লেটে ফিশফ্রাই রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ফিশফ্রাই নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কম আলোচনা হয়নি। মাঝে আরও এক বার ‘ফিশফ্রাই রাজনীতি’ দেখেছে বাংলা। যখন দীর্ঘ ক্ষোভ উগরানোর পর উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে চায়ের আমন্ত্রণে যান কুণাল ঘোষ। জলযোগে থাকে ফিশফ্রাই। তারপর আবারও সুকান্ত মুখে ‘ফিশ ফ্রাই’ তত্ত্ব!
মোহিত-কে ঠিক কী বার্তা দিলেন সুকান্ত?
সুকান্তর কথায়, “আমরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করব। তার সঙ্গে অনান্য বিরোধী দল যারা রয়েছে, তাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এখানে কংগ্রেস টিম টিম করে জ্বলছে। মোহিত সেনগুপ্তের হাত ধরে কোনওক্রমে কংগ্রেস টিম টিম করে জ্বলছে। আমি মোহিত দা-সহ কংগ্রেসের যাঁরা ভাল ভাল রয়েছেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে চান, তাঁদের বলি, নবান্নে গিয়ে ফিশ ফ্রাই আর কফি খেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরবেন না। আমাদের নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরুন।”
তবে বিজেপি আর কংগ্রেস ভোটের আগে কাছাকাছি?
সুকান্তের এহেন মন্তব্যের পর স্বাভাবিকেই ছাব্বিশের নির্বাচনে নতুন কোনও সমীকরণ বাংলা দেখবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই সুকান্তর পাল্টা বক্তব্য, “কংগ্রেস কেন কাছে আসবে? কংগ্রেসের ভোটার আসবে, কংগ্রেসের নেতারা আসবেন। কংগ্রেস যেখানে আসে থাকুক, কংগ্রেসকে নেব কেন?”
সুকান্তর ডাকে কি সাড়া দিচ্ছেন মোহিত?
কংগ্রেস ছেড়ে কি তবে বিজেপিতে? উত্তর দিনাজপুরের কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “আমি আমার জাতধর্ম শেষ করে কংগ্রেস ছেড়ে আমি কেন যাব বিজেপিতে? যে দলটা একেবারেই মুসলিম বিদ্বেষী দল, হিন্দু মুসলিম বিভেদ তৈরি করছে, সেই দলে আমি কখনই যাব না। বিজেপি মানুষ করে নাকি, ওদের পায়ের তলার মাটি নেই বলে এসব বলছে।”