
ফেসবুক থেকে ইন্সটাগ্রাম, খুললেই একটা ছবি দেখা যাচ্ছে। মাইলের পর মাইল জুড়ে বরফ, তার মধ্যে একা হেঁটে যাচ্ছে একটি পেঙ্গুইন। আন্টার্টিকার ভিডিয়োয় সামনে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে পেঙ্গুইনের দল থেকে আলাদা হয়ে বরফের পাহাড়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। ওই ছোট্ট ক্লিপ ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ পেয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ওই ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন। কেউ ওই পেঙ্গুইনের মধ্যে জীবন দর্শন, অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন, কেউ আবার ওই ছবিতে খুঁজে পেয়েছেন একরাশ কষ্ট। কিন্তু এই একা পেঙ্গুইনের আসল কাহিনি কী, তা অনেকেই জানেন না।
দিন কয়েক ধরে এই পেঙ্গুইনের ছবি ও ভিডিয়ো ভাইরাল হলেও, এটি আসলে ১৯ বছর পুরনো একটি ডকুমেন্টারি। জার্মান পরিচালক ওয়ার্নার হেরজ়গ তাঁর এনকাউন্টার অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারিতেই একটি অ্যাডিলি পেঙ্গুইনের নিজের দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ভিডিয়ো তুলে ধরেন। যেখানে বাকি পেঙ্গুইনরা খাবারের খোঁজে জলের দিকে যাচ্ছিল, সেখানেই একটি পেঙ্গুইন একা একা বরফে মোড়া পাহাড়ের দিকে হেটে যাচ্ছিল।
পেঙ্গুইনরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে থাকে, তবে ওই পেঙ্গুইনের এই স্বভাব বিরুদ্ধ আচরণই সকলকে চমকে দিয়েছিল। পরিচালক ওয়ার্নার হেরজ়গ এই দৃশ্যকে বলেছিলেন ‘ডেথ মার্চ’। ওই বরফে, একা, বিনা কোনও খাবারে পেঙ্গুইনটি বেঁচে থাকতে পারবে না জেনেই এই কথা বলেছিলেন।
পরে বিভিন্ন এক্সপার্ট ও পরিচালক ওয়ার্নার জানিয়েছিলেন যে সত্যিই ওই পেঙ্গুইনের মৃত্যু হয়। আন্টার্টিকায় ৭০ কিলোমিটার হেঁটে যাওয়ার পর পেঙ্গুইনের মৃত্যু হয়। অনেকেরই দাবি, ওই পেঙ্গুইনের সঙ্গীর মৃত্যু হয়েছিল। তাই তাঁর মন ভেঙে গিয়েছিল। সেই কারণেই দল ভেঙে একা একা চলে যায় পেঙ্গুইনটি।
if this penguin doesn’t penetrate your psyche so deeply that you are compelled to finally drop everything & chase your dreams.
then you’re doomed forever bro. pic.twitter.com/RoErFNmyGT
— oscay (@oscaytrades) January 23, 2026
২০২৬ সালের শুরুতেই এই ভিডিয়ো যখন ভাইরাল হয়, তার পিছনে একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ ওই পেঙ্গুইনের একা হেঁটে যাওয়ার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছেন ‘একলা চলো’র বার্তা। গতানুগতিক ৯-৫টার কাজ না করে, কিংবা সকলের অনুসরণ করা পথে না হেঁটে নিজের মত অনুযায়ী অন্য পথে চলাকে তুলে ধরা হয়েছে। কেউ আবার বলছেন, সকলেই যে এখন একাকীত্বে ভুগছেন, তারই ছবি এই পেঙ্গুইন। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, কাজের চাপ কিংবা কোথাও বাধন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার প্রতীক মনে করছেন।