
সানা : ইরানের যুদ্ধে এবার যোগ দিতে পারে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী? সেরকমই ইঙ্গিত মিলেছে। আর হুথিরা যদি যুদ্ধে যোগ দেয় তাহলে আরও বড় সঙ্কট তৈরি হতে চলেছে বিশ্ববাণিজ্যে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ রয়েছে। যদিও, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা-ইজ়রায়েল বাদে হরমুজ সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু, তারপরেও নিরাপত্তার কারণে অনেকে দেশই হরমুজ়় প্রণালী ব্যবহার করতে চাইছে না। এদিকে, ভারতে ধীরে ধীরে এসে পৌঁচ্ছছে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার। কিন্তু, এরই মাঝে আরও একটা কালো মেঘ ঘনাচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে। আর হুথিরা যদি সংঘাতে অংশ নেয়, তাহলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাব-এল-মান্ডেব নামে আরও একটা প্রণালী।
হুথিরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে,তারা প্রস্তুত রয়েছে। ট্রিগারেই আঙুল রয়েছে তাঁদের। প্রয়োজন পড়লে যে কোনও সময় তাঁরা ট্রিগারে চাপ দিতে পারে। তাঁদের এই হুঙ্কারের পরই জোর চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে এটা ইরানের ত্রি-স্তরীয় কৌশল। প্রথমে হরমুজ বন্ধ, তারপর ইজ়রায়েলের উপর হিজবুল্লাহদের হামলা, এবার যুদ্ধে হুথিদের নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুথিরা যুদ্ধে যোগ দিলে বন্ধ হয়ে যাবে বাব-এল-মান্ডেব। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজ় আপাতত খুলে দিয়ে বাব-এল-মাণ্ডেব বন্ধ করে দেওয়ার ছক কষছে ইরান। জানা গিয়েছে, হরমুজ়ের মতোই আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী হল এই বাব-এল-মাণ্ডেব। আর এই প্রণালী বন্ধ হলে ভারতে কোনও প্রভাব কি পড়তে পারে?
বাব এল মাণ্ডেব কেন প্রয়োজনীয়?
বাব এল-মাণ্ডেব মূলত লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করে। এই পথটি এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের মূল চাবিকাঠি। তেল সরবরাহে হরমুজ় প্রণালীর পরেই রয়েছে বাব-এল-মান্ডেব। বিশ্বের তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। সাধারণত এই প্রণালীর উপর নির্ভর করে ইজ়রায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর, সুদান। সাধারণত, সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যে বড় ভূমিকা পালন করে বাব এল-মান্ডেব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় হুথি, তাহলে পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারে। যুদ্ধে আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে।