
ঢাকা: বাংলাদেশ জুড়ে ভারতবিরোধী হাওয়া, দীপু দাসের হত্য়া। পদ্মা-যমুনার সমীকরণ এই কয়েকদিনে অনেকটাই বিগড়ে গিয়েছে। এবার সেই আবহেই বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সংক্ষিপ্ত সফর, তবে গোটা পর্বই ঢাকায় কাটিয়েছেন তিনি। তারেক রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ‘ব্যক্তিগত চিঠিও’ তুলে দিয়েছেন জয়শঙ্করই।
বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার নেই। এই আবহে তারেকের সঙ্গে আলাপ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে মৌখিক বার্তালাপ, কোন চোখে দেখছে ঢাকা? বৃহস্পতিবার এই প্রশ্নই করা হয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেনকে।
যার উত্তরে তিনি বললেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিরাই এসেছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছিলেন। তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারপর চলে গিয়েছেন। এটা একটা ভাল বিষয়, কিন্তু এ পর্যন্তই! এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভাল। এই গোটা সফরকে কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার দরকার নেই।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ। তাঁদের মতে, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যে অস্বস্তি এখনও কাটেনি, তা হাবেভাবে কার্যত স্পষ্ট। এই পর্বে জয়শঙ্করের সঙ্গে হাত মেলানো ছাড়া কোনও কিছুই হয়নি বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তাঁর কথায়, ‘বৈঠক তো দূর, আমাদের মধ্যে ওয়ান-টু-ওয়ান কোনও কথা বার্তাও হয়নি। সে রকম সুযোগও আসেনি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও ছিলেন, পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তাঁর সঙ্গেও জয়শঙ্কর হাত মিলিয়েছেন। এটা সৌজন্য, যা সবাই মেনে চলেন। তবে এই সফর ইতিবাচক ছিল। কিন্তু তাতে টানাপোড়েন কমবে কিনা, তা সময় বলবে।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জয়শঙ্কর। সেই মতো খালেদার শেষকৃত্যে যোগ দিতে বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে যান এস জয়শঙ্কর। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী, সকাল ১১টার দিকে বাশারে বাংলাদেশের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নামেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব এম ফরহদ হোসেন।