Bangladesh Update: মাথায় পেট্রল ঢেলে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল! বাংলাদেশে মৃত্যু আরও এক হিন্দুর
Bangladesh Another Hindu Died: সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার বলেন, 'ওনার শরীরের ৩০ শতাংশ অংশ সম্পূর্ণ জ্বলে গিয়েছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য় এখানে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসা আর নিতে পারলেন না, মৃত্যু হয়েছে ওই রোগীর।' অবশ্য, এই সময়কালেই তাঁর উপর হামলা চালানো দুর্বৃত্তদের নাম বলে গিয়েছেন তিনি।

ঢাকা: মাথায় পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। এরপর টানা তিনদিনের লড়াই। জীবন-মৃত্যুর মাঝে চলল দড়ি টানাটানি। এবার তাতেই হেরে গেলেন খোকন চন্দ্র দাস। তিনি ঢাকার শরিয়তপুরের ডামুড্য়ার বাসিন্দা। বর্ষবরণের রাতে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন দুর্বৃত্তদের হাতে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এদিন খোকনের এক আত্মীয় — প্রান্ত দাস প্রথম আলো-কে জানিয়েছেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য শাহবাগ থানায় যাচ্ছি। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হবে, সেই কাজ শেষ হলে দেহ নিয়ে গ্রামের দিকে রওনা দেব।’
সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার বলেন, ‘ওনার শরীরের ৩০ শতাংশ অংশ সম্পূর্ণ জ্বলে গিয়েছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য় এখানে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসা আর নিতে পারলেন না, মৃত্যু হয়েছে ওই রোগীর।’ অবশ্য, এই সময়কালেই তাঁর উপর হামলা চালানো দুর্বৃত্তদের নাম বলে গিয়েছেন তিনি। পুলিশি সূত্রে খবর, মোট দু’জনের নাম বলে গিয়েছেন খোকন।
এক জন হলেন, কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান ও অন্য জন হলেন রাব্বি মোল্লা। এই দু’জনের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ২১ বছর। তবে এই দু’জন ছাড়াও প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদার নামে আরেক এক অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে এদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
কী ঘটেছিল?
ঘটনা বুধবার রাতের। দীপু দাসের কায়দায় হামলা চালান হয় বাংলাদেশের আরও এক সংখ্যালঘু হিন্দুর উপর। এই খোকন চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী। কেউরভাঙা বাজারে একটি ওষুধ এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতোই অটো রিকশা চেপে ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ডামুড্যা-শরিয়তপুর সড়কে কেউরভাঙা বাজারের অদূরেই তাঁর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে অটো রিকশা থেকে নামিয়ে মারধর। তারপর অভিযুক্তদের খোকন চিনে ফেললে তাঁর মাথায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। চিল-চিৎকার করেন। যা কানে আসে স্থানীয়দের। তারপরই তাঁকে উদ্ধার করে পাশের হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। পরবর্তীতে সেখান থেকেই স্থানান্তর করা ঢাকায়।
