
ঢাকা: এই প্রথম শহিদ মিনারে গেলেন কোনও জামায়াতের আমির। শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সাংসদদের নিয়ে সেখানে পৌঁছে যান আমির শফিকুর রহমান। যা ঘিরে বাংলাদেশ জুড়ে চলছে জলঘোলা। আচমকা নীতি-বদল নাকি ক্ষমতার স্বাদ পেতে ভাবনার পরিবর্তন করছে জামায়াত, উঠছে প্রশ্ন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অভিযোগ, তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী। হামেশাই মুক্তিযুদ্ধকে ‘ইসলাম-বিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন জামায়াতের আমিররা। পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরি হওয়া মেনে নিতে পারেনি জামায়াত। সর্বসম্মুখেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করতে দেখা গিয়েছিল জামায়াত নেতা-কর্মীদের। সেই কারণে বাংলাদেশে সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে রাজনীতি ও নির্বাচনী লড়াই থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ক্ষমতার স্বাদ যে তাঁরা পায়নি এমনটাও নয়। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করতে না-পেরে দ্বারস্থ হয়েছিল এই জামায়াতের কাছেই।
শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, একুশে ফেব্রুয়ারি বা আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসকেও ‘ইসলাম-বিরোধী’ বলে এককালে কটাক্ষ করেছিল জামায়াত। কিন্তু শনিবার সেই ভাষা দিবসেই শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিলেন জামায়াতের আমির। যা তাদের দলের ইতিহাসে প্রথমবার। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আচমকা ‘নীতি-বদল’ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল আমির শফিকুর রহমানকে। তিনি বলেন, আমির নয়, বরং বিরোধী দলনেতা হিসাবে এসেছেন। শফিকুরের কথায়, “এবার রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে, এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমাকে আসতে হতই। তাই আমার সঙ্গীদের নিয়েও এসেছি।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আয়োজিত দীর্ঘপ্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও শরিক দলগুলি মিলে প্রাপ্ত আসনের সংখ্য়া দাঁড়িয়েছে ৭৭টি। বিরোধী দলনেতা হতে চলেছেন শফিকুর রহমান। অন্যদিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন, সংখ্যার দিক থেকে ২১২টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে বিএনপি। ভাষা দিবসের দিনে শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। সাধারণভাবে এর আগে ভাষা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সকাল সকাল শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছে যেতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর আসতেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু চলতি বছর উলটপুরাণ। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পর শহিদ মিনারে পৌঁছলেন তারেক।