
কলকাতা : আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে গোটা বিশ্বে ব্যাহত হচ্ছে উড়ান পরিষেবা। একটি রিপোর্টে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে উড়ান শিল্পে কমপক্ষে ২০টি কোম্পানির প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ভারতীয় মূল্য়ে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন টাকা। কোভিড ১৯-এর মহামারীর পর এত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি উড়ান সংস্থাগুলি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাগুলির কতৃপক্ষের মতে, এর ফলে কোম্পানিগুলির আয়ের উপরে প্রভাব পড়েছে।
এর ফলে উড়ান শিল্পে কীরকম প্রভাব পড়েছে ?
প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে অনেক উড়ান বাতিল করা হচ্ছে। কিছু ফ্লাইটকে স্থগিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এছাড়াও আরবীয় দেশগুলির বিমানবন্দরের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। সেখান থেকে সময়ে বিমান ওঠানামা হচ্ছে না ফলে সময়ের ব্যাঘাত ঘটছে । সবথেকে বড় চাপ পড়েছে জ্বালানির বা জেট ফুয়েলের দামে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুন হয়ে গিয়েছে। সাধারণত, একটি বিমান সংস্থার খরচের এক তৃতীয়াংশ যায় জ্বালানির পিছনেই। কিন্তু এই দাম বাড়ার ফলে আরও খরচের সম্মুখীন হচ্ছে সংস্থাগুলি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিমান জ্বালানি বা পরিষেবা ব্য়াহত হওয়ার মধ্য়েই আটকে নেই। এর ফলে সাধারন মানুষের পকেটেও টান পড়ছে ফলে তাঁরা বিকল্প পথ খোঁজা শুরু করেছেন ।
ইজিজেট কোম্পানির সিইও কেন্টন জার্ভিস জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থনিক ক্ষতি হয়েছিল করোনার সময়। পরে ২০২২ সালে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধের সময়েও এত ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি সংস্থাগুলি। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ক্ষতি যেন মনে করাচ্ছে করোনার সময়কে।বাকি সংস্থার কর্তারা বলেছেন, তাঁদের প্রতি যাত্রী পিছু গড় মুনাফা ১০ ইউরো, ফলে এই বিশাল খরচ তাঁদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। জ্বালানি সংকটের ফলে এয়ারলাইন্সগুলো আগামী পরিকল্পনা করা শুরু করেছে। বেশ কিছু কোম্পানি তাদের রুট কমিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছে। কিন্তু এই যুদ্ধে ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar), এমিরেটস (Emirates) ও ইতিহাদের (Etihad) মতো কোম্পানিগুলি। তাদের ফ্লাইটের সংখ্যাও কমানো হয়েছে এই যুদ্ধপরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু যাত্রীবাহী বিমানেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে কার্গো বিমানের উপরেও। কারণ বেশ কিছু রুট পরিবর্তনের ফলে এখন ঘুরপথে পণ্য পাঠানো হচ্ছে ফলে খরচ হচ্ছে জ্বালানি। এছাড়াও এই প্রভাবে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বিমানবন্দরগুলির উপরেও। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই যুদ্ধ বন্ধ হয়, তাহলেই প্লেনের টিকিটের ও জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম কিছুটা হাতের নাগালে আসবে। ফলত, লাভের মুখ দেখবে যাত্রী এবং বিমান সংস্থা – দুইই। যদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়, তাহলেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে উড়ান শিল্প, মনে করছেন ইজিজেট কোম্পানির সিইও কেন্টন জার্ভিস।