
ঢাকা: রাজনীতিতে এই দুই দল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবেই পরিচিত। সেই দলের মুখেই কি না বন্ধুত্বের কথা, সুরক্ষার আশ্বাস? বাংলাদেশে নির্বাচনের (Bangladesh Election) আগে এই কথাই শোনা গেল। আওয়ামী লিগের (Awami League) কর্মীদের সুরক্ষার কথা বললেন বিএনপি(BNP)-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রতিপক্ষ আওয়ামী লিগের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বললেন, “যারা অন্যায় করেনি তাদের শাস্তি হতে দেব না।”
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ হয়, সেই আশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, “গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পেরেছিলেন? ভোট দিতে পারেননি। সে সময় আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। এখন একটা সুযোগ এসেছে।”
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমাদের হাসিনা আপা ভারতে চলে গিয়েছেন। তিনি ভারতে গিয়েছেন, ভালো করেছেন। কিন্তু এলাকার সমর্থক-কর্মীদের বিপদে ফেলে গিয়েছেন কেন? আমরা কর্মী-সমর্থকদের জানাতে চাই, আপনারা বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।”
নিজের প্রচারে বিএনপি প্রার্থী বলেন, “আমি কিন্তু আপনাদেরই ছেলে, আপনাদেরই ভাই। এই এলাকা থেকে নির্বাচন করে আমি কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি। যখন হেরেছি, তখন কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আমার বয়স ৭৮ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মনের দিক থেকে এখনও তরুণ আছি। আমি বিশ্বাস করি, এখনও অনেক কাজ করতে পারব। সুযোগ পেলে এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারব।”
একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুসলমান–হিন্দু ভাইবোনদের অনুরোধ করব, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করি। এই উন্নয়ন কেবল ধানের শীষ করতে পারবে, আর কেউ করতে পারবে না। আজ কিছু লোক আমাদের ভাগ করতে চায়। আমরা কি বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান আলাদা আলাদা বাস করি? এলাকাতে একসঙ্গে হিন্দু-মুসলমানরা থাকেন। একসঙ্গে চলাফেরা করেন। আমাদের পরবে হিন্দুরা আসেন, হিন্দুদের পুজোয় আমরা যাই। আমরা এই অবস্থাটা ধরে রাখতে চাই। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বাংলাদেশে। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ইতি টেনে এবার নির্বাচিত সরকার গঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ কারণ নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।