
ঢাকা: রাত পোহালেই বাংলাদেশ নির্বাচন। এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাংলাদেশের কাছেই নয়, ভারত তথা গোটা বিশ্বের কাছেও। হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশ বিগত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শাসিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে নির্বাচন হলে জিতবে কে? এই প্রশ্ন ঘুরে ঘুরে আসছে বারবার। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। বিএনপি আছে। তবে আরও একটি দলের নাম উঠে আসছে ঘুরে ফিরে। জামাত। এবারের নির্বাচনে কতটা অ্যাডভান্টেজে এই উগ্র ইসলামি দল?
বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামি এবার ১১ দলের একটি জোট হিসাবে ভোটে লড়ছে। বাংলাদেশের প্রায় সব কটি ইসলামি দলই জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। আর সঙ্গে আছে এনসিপি (NCP)।
অতীতের রেকর্ড বলছে জামাত একা ভোটে লড়লে ৫-৭টার বেশি আসনের প্রত্যাশা না করাই ভাল। কিন্তু, এবার তাদের বড় শরিক NCP, যাঁরা জুলাই বিপ্লবের দল। আর এর সঙ্গে রয়েছে অনেকগুলি ছোট ছোট কিন্তু বিভিন্ন পকেটে শক্তিশালী ইসলামি দল। তার উপরে দেশের পরিস্থিতিও ঘোলাটে। ফলে, জামাত জোট এবার ঠিক কেমন আসন জোগাড় করবে তা বলা যাচ্ছে না।
আসলে জামাতের কয়েকটা বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, তারা বলছে, আওয়ামী লীগকে দেখেছেন। বিএনপি-কেও দেখেছেন। এবার একবার আমাদের সুযোগ দিন। অর্থাৎ, তারা পরীক্ষিত নয় বলেই সম্ভাবনাময়- এমনটাই বলতে চাইছে।
তাছাড়া, জামাতের সংগঠন সারা দেশে না থাকলেও যতটুকু রয়েছে তা খুবই ওয়েল ওয়েলড। ইলেকশন মেশিনারির দিক থেকেও জামাত বেশ ঝকঝকে। এর বাইরে, হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে মুসলিম সাম্প্রদায়িক রাজনীতির একটা অনুকুল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর পিছনে জামাতের কৃতিত্বও যেমন রয়েছে, তেমনই এর ফসলও তুলবে এবার জামাত, এমনটাও মনে করা হচ্ছে।
আর বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনে নাকি জামাতের প্রভাব নিরঙ্কুশ। আর সেটা যদি ঠিক হয় এবং ঠিক ভাবে কাজ করে তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু, জামাতের জন্য চাপের দিকও রয়েছে বেশ কয়েকটা।
প্রথমত, জামাত মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানপন্থী ছিল। এ তাদের ঐতিহাসিক দায়। একাত্তরের গণহত্যায় জামাতের ভূমিকা প্রবলভাবে সমালোচিত। তাই স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের ভোট তেমন একটা জামাত পাবে না।
দ্বিতীয়ত, BNP-র সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সংগঠন তো তাদের নেই। সব থেকে বড় কথা, দীর্ঘকাল ধরে উগ্র ইসলামি রাজনীতি করে আসার জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষত ওয়েস্টার্ন ওয়ার্লডে জামাতকে ভাল চোখে দেখা হয় না। যদিও নানা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে জামাত এখন নিজেদের মডারেট প্রমাণ করতে চাইছে, তবে তাতে তেমন কাজ কি হবে?
শেষে একটা কথা থেকেই যায়। তা হল নারী শক্তি। জামাত তত্ত্বগতভাবে নারী বিরোধী বলে প্রচার। এবার একজন মহিলাকেও তারা টিকিট দেয়নি। অথচ বাংলাদেশে প্রায় অর্ধেক ভোটারই নারী। এই নারী ভোট কতটা উঠবে জামাতের দাড়িপাল্লায়?
তবে ভোটের আগেই ভোট কারচুপির হাতে গরম খবর এসেছে দু-তিন দিন আগেই। লক্ষ্মীপুর থেকে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধার হয়েছে। প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়েছেন এবং তিনি জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তাঁকে এইগুলি বানাতে নির্দেশ দিয়েছিল জামাত নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ। ঘটনা সামনে আসতেই এই সৌরভকে আবার বহিষ্কার করেছে জামাত। দলের ভাবমূর্ত্তি নমষ্ট করার জন্যই এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। জনাব সৌরভ অবশ্য এখন পলাতক! তার মানে, ভোট জালিয়াতি নিয়ে আশঙ্কা থাকছেই।
বাংলাদেশে জামাতের প্রভাব কতটা বেড়েছে, তা নিয়েও কিন্তু বড় একটা আভাস আগেই মিলেছে। তা হল বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একটানা জিতেছে জামাত। এই নির্বাচনে জয় কিন্তু যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। কারণ বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গরিব কিন্তু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়তে আসে। তাদের সমর্থন পাওয়া মানে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়া, এমনটা যেমন নয়, ঠিক একইভাবে দেশের যুবদের সমর্থন পাওনাও কিন্তু হালকা বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা জানা যাবে ভোটের পরেই।