Bangladesh Debt: আয়ের একটাই উৎস, তারেকের ঘাড়ে কত টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেলেন ইউনূস?
Bangladesh Election Results: বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে পা দিতে হবে ডুবন্ত জাহাজে। দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তিন বছরের বাজেট বরাদ্দের সমান। বাংলাদেশের ঘাড়ে রয়েছে ২০ লক্ষ কোটির ঋণ। আর আয়ের উৎস? বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোটাই বস্ত্র শিল্প নির্ভর।

ঢাকা: বাংলাদেশে পরিবর্তনের ঢেউ। গঠিত হবে নির্বাচিত সরকার। ভোটের ট্রেন্ড বলছে, দুই দশক পর ক্ষমতায় আসছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি-র চেয়ারম্য়ান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বদল আসবে অনেক কিছু। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও শোধরাবে বলেও আশা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি এসেই বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এর মধ্যে বাংলাদেশের গলায় সবথেকে বড় ফাঁস হল ঋণের, যা বিদায় নেওয়ার আগে আরও টাইট করে গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে পা দিতে হবে ডুবন্ত জাহাজে। দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তিন বছরের বাজেট বরাদ্দের সমান। বাংলাদেশের ঘাড়ে রয়েছে ২০ লক্ষ কোটির ঋণ। আর আয়ের উৎস? বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোটাই বস্ত্র শিল্প নির্ভর। একটা আয় দিতে দেশ চলতে পারে না। এই সহজ হিসাব বুঝিয়েছেন ওয়ারেন বাফেটও। কিন্তু বাংলাদেশ সেই শিক্ষা নেয়নি। করোনাকালের পর থেকেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প ও তার উপরে নির্ভরশীল অর্থনীতি।
এরপরে গণ-অভ্যুত্থান ও আন্দোলন। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বিগত ১৮ মাসে ২৫ হাজার কোটির অর্ডার বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের বরাতে ভাগ বসিয়েছে ভারত থেকে শুরু করে মায়ানমার, ভিয়েতনাম। তবে ট্রাম্প বাংলাদেশকে অনেকটা ছাড় দিয়েছেন। প্রথমে ১৯ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে ঘোষণা করেন যে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের উপরে কোনও শুল্ক নেওয়া হবে না। তবে এক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। যদি আমেরিকার সুতো ও কাঁচামাল ব্যবহার করে বাংলাদেশ, তবেই এই শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে মার্কিন পণ্য আমদানি করতে হবে। এদিকে অর্থনীতি তো টালমাটাল।
অর্থনীতির সঙ্কট-
বাংলাদেশে আর্থিক সঙ্কট ক্রমশ্য স্পষ্ট হচ্ছে। কমছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। প্রবাসীদের টাকা পাঠানোও কমেছে সাত শতাংশ। পরপর দুই বছর কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতেই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ব আইএমএফের থেকে প্যাকেজ নিতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ। যার প্রভাব পড়ে বাজেটে, কাটছাট করা হয় সামাজিক প্রকল্পে। অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ে। বস্ত্রশিল্পে অত্যাধিক নির্ভরশীলতাই এর কারণ। এর পাশাপাশি চিনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা তো আছেই।
ইউনূস প্রশাসনও তাদের দেড় বছরের সময়ে একাধিক ঋণ নিয়েছেন। বিদায়বেলায় সেই বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি বা ওয়াসার ঘাড়ে আগে থেকেই ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছিল। সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়নি, তার মধ্যেই ইউনূস সরকার আরও একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। সেই প্রকল্পও ঋণের টাকায় হবে। এর জন্য খরচ হবে ৭২১ কোটি টাকা। এবার এত টাকা আসবে কোথা থেকে? দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নেবে বাংলাদেশ।
এবার নতুন যে সরকার আসবে, তাকেই এই ঋণ মেটাতে হবে। অর্থাৎ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে, তাদেরই এই ঋণ মেটাতে হবে।
