
ঢাকা: দেশে যাওয়ার পরেই হাতে আর ভিসা ধরিয়ে দেওয়া হবে না। বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি সতর্ক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাই সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হল ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’।
বুধবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যে সকল দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশে এতদিন ভিসা অন অ্য়ারাইভাল বা আসার পর ভিসা পেয়ে এসেছেন, তাঁদের উদ্দেশে ইতিমধ্যেই একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে।’
কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়? তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘আপাতত ভিসা অন অ্য়ারাইভাল সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হল। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ যে সকল দেশকে এই সুবিধা দেয়, সেই দেশগুলিতে স্থিতু বাংলাদেশের দূতাবাসগুলি এই মর্মে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।’ কিন্তু আচমকা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী? পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধরনের ‘অপচেষ্টা’ হতে পারে। যে কেউ সেদেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে। সেই ‘অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে’ এমন সিদ্ধান্ত।
পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার ও কারচুপির আশঙ্কা নিয়েও মুখ খুলেছেন তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কথায়, ‘বিষয়টি আমরা দেখেছি। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’ এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনা-আধাসেনা ও পুলিশ-সহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষকর্তারাও। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের চার দিন সারাদেশে টহল চালাবে যৌথবাহিনী। ভোট পরবর্তী সময়েও দু’দিন ধরে চলবে টহলদারি। এই পর্বে ১ লক্ষ সেনা-সহ মোট ন’লক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।