
ঢাকা: ৩২২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনমুখী বাংলাদেশে নতুন বছরে ঢুকল এই বিপুল পরিমাণ টাকা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দ্বিতীয়বার ঘটল। কিন্তু আচমকা এই অর্থ আসার কারণ কী? উৎসবের মরসুম নাকি নির্বাচনটাই আসল খেলা?
সময় টিভি-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্য়াঙ্ক এই তথ্য তুলে ধরেছে। তারা জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে এখনও পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্য়ান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগে গত মার্চ মাসে ৩২৯ কোটি মার্কিন ডলারের অধিক রেমিট্য়ান্স এসেছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। এর মধ্য়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্য়াঙ্কগুলির মাধ্য়মে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লক্ষ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়াও বিশেষায়িত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ডলারের অধিক। বেসরকারি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এসেছে ২২৯ কোটি ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাঙ্কগুলির মাধ্য়মে এসেছে ৬৮ লক্ষ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।
সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে থাকে এই রেমিট্য়ান্সের উপর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের টানা কয়েক মাস রেমিট্যান্স আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা প্রভাব ফেলেছিল সেদেশের অর্থনীতিতেও। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার সেদেশে আসে, যা আমদানি ব্য়য় মেটানো, টাকার মান ধরে রাখা এবং গ্রামের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই রেমিট্য়ান্স নির্ভর অর্থনীতি যে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, বাংলাদেশে হাড়ে-মজ্জায় টেরও পেয়েছে।
অবশ্য রাজনৈতিক মহল এই রেমিট্য়ান্সকে সহজ ভাবে দেখছে না। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে বিপুল রেমিট্যান্স কোথাও গিয়ে তুলে ধরেছে নানা প্রশ্ন। ঘুরপথে ভোট করানো টাকা ঢুকছে না তো? প্রশ্ন একাংশের।