
নয়া দিল্লি: মিটছে দূরত্ব, আবার স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। প্রায় দুই মাস পর স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা। গত ডিসেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্য়ে ভিসা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই আবার দুই দেশের মধ্যে বরফ গলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে। কবে থেকে ভিসা পাওয়া যাবে?
জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার থেকেই ফের সব ক্যাটাগরির ভিসা দেওয়া শুরু করছে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে পরিষেবা স্বাভাবিক হচ্ছে কলকাতা, শিলিগুড়ি, গুয়াহাটি ও মুম্বইয়ের মিশনগুলিতে। ভারতীয়দের বাংলাদেশে যেতে কোনও বাধা বা সমস্যা থাকবে না।
অন্যদিকে, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে ভারতও। তারাও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পরিষেবা চালু করছে। মেডিক্যাল, স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া এবার পর্যটক ভিসাও পাওয়া যাবে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে বাংলাদেশিদের মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হয়। এবার ভ্রমণ ভিসা সহ অন্যান্য শ্রেণির ভিসা পুনরায় চালু করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে হাসিনা সরকারের পতনের পর। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং শেখ হাসিনার ভারত চলে আসার তিন দিন পর, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট প্রথমবার ভিসা স্থগিত করে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে দেওয়া হয়। প্রথমেই ঢাকার ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করা হয়।
বাংলাদেশের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেই বাংলাদেশজুড়ে সব আইভিএসি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় গত বছরের শেষভাগে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, অস্থির পরিস্থিতির আগে দৈনিক প্রায় ৮,০০০ ভিসা দেওয়া হত, যা ওই সময়ে নেমে দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০-তে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ফের একবার উত্তপ্ত হয় বাংলাদেশ। নিশানা করা হয় ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে।