
ওয়াশিংটন: আবার একটা মহামারি? আবার কি মাসের পর মাস গৃহবন্দি থাকতে হবে মানুষকে? সেই আশঙ্কার কালো মেঘই জমছে। এবার ভয়ের কারণ বার্ড ফ্লু। পাখিতে নয়, মানবদেহে বার্ড ফ্লুয়ের এক নতুন ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিলল। ওয়াশিংটনে বার্ড ফ্লু আক্রান্তের খোঁজ মিলল। এইচ৫এন৫ (H5N5) এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি। মহামারি হয়ে উঠতে পারে নতুন ভাইরাস, আশঙ্কা মার্কিন চিকিৎসকদের।
মার্কিন স্টেট হেলথ অথারিটির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে বার্ড ফ্লুয়ের যে স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে, তা আগে কোনও মানবদেহে পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত ব্যক্তি গ্রে হারবার কাউন্টির বাসিন্দা। তাঁর আরও কিছু রোগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি। তবে ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তরফে বলা হয়েছে, বৃহত্তর জনসংখ্যার মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এখনও সীমিত।
কীভাবে ওই ব্যক্তি বার্ড ফ্লু-তে আক্রান্ত হলেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও, চিকিৎসকদের সন্দেহ, পোল্ট্রি ফার্মিং থেকেই আক্রান্ত হতে পারেন ওই ব্যক্তি। তবে মানবদেহে বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার নতুন স্ট্রেইন নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ শীতকাল পরিযায়ী পাখিদের মরশুম। এই মরশুমে বার্ড ফ্লুয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণত পশুপাখির লালা, মিউকাস, মল, দুধ থেকে এই রোগ ছড়ায়। বসন্তের শেষভাগ বা শীতেই এই সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে কারণ এই সময়ে পরিযায়ী পাখিরা গৃহপালিত বা খামারে পালিত পাখিদের সংস্পর্শে আসে। বিশ্বজুড়েই বার্ড ফ্লু সংক্রমণ হলেও, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আমেরিকায় যে আউটব্রেক বা সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাতে স্তন্যপায়ীদের মধ্যে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আমেরিকায় ৭০ জন মানুষের দেহে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ মিলেছে। এদের মধ্যে এক বয়স্ক রোগীর মৃত্যুও হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।
এখনও পর্যন্ত এক মানবদেহ থেকে অন্য মানবদেহে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া্র হদিস না মিললেও, ওয়াশিংটন স্টেচ কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা কারোর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না। তাদের পরীক্ষাও করা হবে বলেই জানানো হয়েছে। এই ভাইরাসের মহামারির আকার ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা এত বেশি উদ্বিগ্ন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃদু সংক্রমণ হয়েছে। চোখ লাল হওয়া, জ্বর সাধারণ উপসর্গ। তবে অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সরাসরি পশু-পাখিদের সরাসরি সংস্পর্শে এসেছিলেন।
মানবদেহে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ এড়াতে সিডিসি জানিয়েছে, যারা খামারে কাজ করেন বা পশু-পাখির সরাসরি সংস্পর্শে আসেন, তাদের যথাযথ সুরক্ষা নিতে। সবসময় গ্লাভস, মাস্ক পরতে। পশু-পাখির মল থেকে বিশেষ সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাইজল বা জলে ব্লিচ মিশিয়ে পাখির মল পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। এবং সেই সময় যেন অবশ্যই গ্লাভস পরা থাকে।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতিতে কাঁচা দুধ, চিজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে নাগরিকদের ফ্লু-শট নেওয়ারও পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।