
ঢাকা: শেখ হাসিনার জমানায় ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ছিল। এরপর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন রোধে পদক্ষেপের জন্য ভারত বার্তা দিলেও অন্তর্বর্তী সরকার হেলদোল দেখায়নি বলে অভিযোগ উঠে। এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সরকার গড়তে চলেছে বিএনপি। বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোন পথে এগোবে? শনিবার ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কী বললেন তিনি?
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ জয়ের পর এদিন ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সাংবাদিক বৈঠকেই তারেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে এগোবে নতুন সরকার? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারেক বলেন, “বিদেশনীতি নিয়ে আমাদের ভাবনা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থই সবার আগে, এটাই আমাদের বিদেশনীতি। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই আমরা আমাদের বিদেশনীতি ঠিক করব।”
হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যেমন সুসম্পর্ক ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ততটাই দূরত্ব ছিল। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে কাছাকাছি আসতে দেখা যায়। এমনও অভিযোগ ওঠে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে যে ছাত্র-যুব আন্দোলন হয়েছিল, তাতে ইন্ধন ছিল পাকিস্তানের। এদিন সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারত, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবে নতুন সরকার? এই প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমাদের কাছে প্রত্যেক দেশের জন্য বিদেশনীতি এক।”
প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশে নতুন সরকার শপথ নেবে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ জয়ের পর তাঁকে ফোনে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।