
নয়াদিল্লি: নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে পৌঁছলেন চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রবিবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়, যমুনায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকে জায়গা পায় তিস্তা ইস্যুর কথাও।
রবিবার এই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও চিনের প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। উভয়পক্ষই নিজেদের মতামত পেশ এবং স্বার্থরক্ষায় জায়গা পেয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল ভাবে আয়োজনের বিষয়েও বাংলাদেশকে চিনা দূত শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিনা দূত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প পুনরুদ্ধার এবং ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ উঠেছে বলে বিবৃতিতে জানান মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি, উঠেছে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চিন হাসপাতালের কথাও। এই বৈঠকেই চিনা রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তিনি তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। প্রকল্পের টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিবাদ আজকের নয়। চিন-বাংলাদেশের এই প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকে আপত্তি তুলেছিল ভারত। কারণ নয়াদিল্লি চায় না, শিলিগুড়ি করিডরের অদূরে তিস্তা নদীর অংশ চিন ব্যবহার করুক। হাসিনার আমলে হাজারও তর্ক-বিতর্কের মধ্য়েই তিস্তার প্রসঙ্গ চাপা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে পালাবদলের পর সেই তিস্তা প্রকল্প নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২০ সালে চিন এই প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবকে টলাতে তিস্তা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এবং ভারতের নিরাপত্তার খাতিয়ে ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তারপরই পালাবদল। বদলে যায় কূটনৈতিক ছক।
অবশ্য চিনা রাষ্ট্রদূতের এই সফর শুধু কূটনৈতিক পরিসরে সীমিত নেই, নির্বাচনমুখী বাংলাদেশে জামাতের আমির শফিকুর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চিনা দূত। ভোটের আগে সব পক্ষের সঙ্গেই সৌজন্য বজায় রেখে চলছে শি জিনপিংয়ের দেশ।