Iran-America Missile : ইরানের ‘মিসাইল সিটি’, আমেরিকার মারণ ক্ষেপণাস্ত্র…দুই দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে কী কী রয়েছে?
Iran-America Missile : আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে আর কতদিন যুদ্ধ করা সম্ভব ইরানের ? কত অস্ত্র আছে ইরানের কাছে? আমেরিকার কাছেই বা কী কী আছে, চলুন জেনে নেওয়া যাকপশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ করে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান। মার্কিন দূতাবাসগুলিতেও হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও, আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে আর কতদিন যুদ্ধ করা সম্ভব ইরানের ? কত অস্ত্র আছে ইরানের কাছে? আমেরিকার কাছেই বা কী কী আছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক

ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তেহরানের একাধিক শহর। যুদ্ধের তীব্রতা ক্রমশ বাড়াচ্ছে আমেরিকা-ইজ়রায়েল। এদিকে, দুই দেশের যৌথ হামলার সামনে একা লড়ছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ করে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান। মার্কিন দূতাবাসগুলিতেও হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও, আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে আর কতদিন যুদ্ধ করা সম্ভব ইরানের ? কত অস্ত্র আছে ইরানের কাছে? আমেরিকার কাছেই বা কী কী আছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক
ইরানের হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ, দুধনের মিসাইল রয়েছে।
ব্যালিস্টিক মিসাইল
জানা গিয়েছে, ইরানের হাতে প্রায় ৩০০০-এরও বেশি মিসাইল রয়েছে। যদিও, তেহরানের হাতে কত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে বেশিরভাগ ব্যালিস্টিক মিসাইলই মাঝারি ও স্বল্প রেঞ্জের। ৩০০ কিমি থেকে ২৫০০ কিমি পর্যন্ত বিভিন্ন রেঞ্জের মিসাইল রয়েছে। দূর পাল্লার মিসাইল ২০০০ কিমি থেকে ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত আনতে পারে।
স্বল্প পাল্লার মিসাইল আঘাত আনতে পারে ১৫০-৮০০ কিমি পর্যন্ত। সেই তালিকায় রয়েছে সাহাব-১, ফতেহ-১১০, ব়্যাড-৫০০, শাহাব-২, ফতেহ-৩১৩, কুড্স-১, ইয়া-আলি, জ়োলফাগার, কোয়াম-১।
মাঝারি পাল্লার মিসাইলের রেঞ্জ ১৫০০ থেকে ২০০০ কিমি পর্যন্ত । তালিকায় রয়েছে শাহাব-৩, খেইবারশেকান, ইমাদের মতো ক্ষেপণাস্ত্র।
ক্রুশ মিসাইল
ক্রুশ মিসাইল সাধারণত কম উচ্চতার হয়। মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় বিমানটি। সেক্ষেত্রে এগুলি সহজে শনাক্ত করা যায় না। ক্রুশ মিসাইলের মধ্যে রয়েছে সৌমার, ইয়া-আলি, দ্য কুডস ভ্যারিয়্যান্ট, হোভেইজ়েহ, পাভেহ, রাড। এই মিসাইলগুলির মধ্যে সৌমার-এর রেঞ্জ ২৫০০ কিলোমিটার।
ড্রোন
ড্রোন তুলনামূলকভাবে সস্তা। বেশি সংখ্যায় ব্যবহার করা যায়। ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
মিসাইল সিটি
ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ভূগর্ভস্থ টানেল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও তৈরি হয়েছে। এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলিকেই ‘মিসাইল সিটি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই মিসাইল সিটি ইরানের অন্যতম ক্ষমতার ভান্ডার। যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান অস্ত্র এই মিসাইল সিটি।
আমেরিকা
ইরানের কাছে যেখানে প্রায় তিন হাজার মিসাইল রয়েছে। সেখানে আমেরিকার কাছে বিভিন্ন ধরনের মিসাইল রয়েছে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার। সেই তালিকায় রয়েছে, এইম-৭ স্প্যারো, এইম-৯ সাইড উইন্ডার, এইম-১২০ আমরাম, এজিএম-হারপুন, মিমি- ১০৪ প্যাট্রিয়ট ইত্যাদি। বেশিরভাগই দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বলে জানা গিয়েছে।
সেনাবাহিনী
মার্কিন সেনা বাহিনীতে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৩ লক্ষ জওয়ান রয়েছেন । সেখানে ইরানের সেনাবাহিনী রয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার সদস্য।
বায়ুসেনা
ইরানের বায়ুসেনার কাছে ৫৬০টি সামরিক বিমান রয়েছে। তুলনায় আমেরিকার কাছে বিমান রয়েছে ১৩ হাজার।
নৌবাহিনী
ইরানের কাছে ১০৯টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। তার মধ্যে ডুবো জাহাজের সংখ্যা ২৫টি। অন্যদিকে, আমেরিকার কাছে রয়েছে সাড়ে তিনশোর বেশি যুদ্ধ জাহাজ।
হিসেব বলছে, সবদিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। সেনাবাহিনী হোক বা মিসাইল কিংবা বায়ুসেনা…সবথেকে বেশি শক্তিশালী আমেরিকা। আবার যুদ্ধে আমেরিকাকে সঙ্গে দিচ্ছে ইজ়রায়েল। ক্ষমতা আরও দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ইরানের পক্ষে কতদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, সেই বিষয়ে একটা সন্দেহ থাকছে।
