
গাজা সিটি: হামাসের হঠাৎ হামলায় কিছুটা হকচকিয়েই গিয়েছিল ইজরায়েল। হামাস যে এতটা সামরিক পরিকল্পনা করে এগিয়েছিল, তা আন্দাজও করতে পারেনি ইজরায়েল। সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ। হামাস কিন্তু কাঁচা কাজ করে না, যাবতীয় পরিকল্পনা করেই যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে তারা। সূত্রের খবর, হামাস বাহিনী ইজরায়েলের বিস্তারিত মানচিত্র নিয়েই হামলার পরিকল্পনা ছকেছিল। কোথায় মিলিটারি বেস রয়েছে, কোনদিকের সীমান্ত টপকানো সহজ, তা ম্যাপ দেখেই চিহ্নিত করেছিল হামাস। সেই অনুযায়ীই হামলা চালায় ইজ় আদ-দিন আল-কাসেম বাহিনী।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যাবতীয় পরিকল্পনা করেই ইজরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামাস। ম্যাপে ইজরায়েলের শহর ও মিলিটারি বেসগুলিকে আগে থেকেই চিহ্নিত করে রেখেছিল হামাস জঙ্গিরা। কোথা থেকে অনুপ্রবেশ করতে সুবিধা বেশি, কোথায় নিরাপত্তায় খামতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে রেখেছিল হামাস। ওই ম্যাপগুলি দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে যে শুধুমাত্র হামলা বা অনুপ্রবেশ নয়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে হামলা এবং নাগরিকদের বন্দি বানানোর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাও করে রেখেছিল হামাস।
হামাস জঙ্গিদের কাছ থেকে ১৪ পাতার একটি নথিও উদ্ধার করা হয়েছে। আরবিক ভাষায় ‘টপ সিক্রেট’ লেখা ওই নথিতে কীভাবে কিবিবুটজ়ে অনুপ্রবেশ করা হবে, নাগরিকদের কীভাবে বন্দি বানানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা লেখা ছিল। হামাস কীভাবে ইজরায়েলে হামলা চালাবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও লেখা ছিল ওখানে।
বৃহস্পতিবার আইডিএফের প্রধান হেরজি হালভি নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, “আইডিএফ দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। শনিবার সকালে গাজা স্ট্রিপের আশেপাশে অঞ্চল থেকে হামলা চালানো হয়। আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এটা থেকে আমরা শিক্ষা নেব। আমরা তদন্ত করব, কিন্তু এখন যুদ্ধের সময়।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচদিন ধরে ঘৃণ্য, নৃশংস হত্যালীলা চালানো হচ্ছে। হামাস জঙ্গিরা মানুষদের, বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে। পশুর মতো হত্যা করা হচ্ছে।”