
প্রায় ৬০ লক্ষ পাতার একটা ডকুমেন্ট। এ ছাড়াও রয়েছে লক্ষ লক্ষ ছবি ও ভিডিয়ো। আর একেই সম্মিলিত ভাবে বলা হয় এপস্টেইন ফাইল। ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে এই এপস্টেইন ফাইলের প্রায় ৩০ লক্ষ পাতা, ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিয়ো। আর তাতেই নড়ে গিয়েছে তাবড় বিশ্ব। কিন্তু এই ফাইলে যে সব বড় বড় নাম রয়েছে সেই সব নামও প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র, তেমনই রয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়াও নাম রয়েছে আমেরিকান এক ধনকুবেরেরও।
ব্রিটেনের বর্তমান রাজা চার্লসের ভাই এই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন। এই ফাইল প্রকাশ্যে আসার পরই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কও এসেছে প্রকাশ্যে। এ ছাড়াও অ্যান্ড্রু বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।
আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের নামও রয়েছে এই ফাইলে। যদিও প্রকাশিত হওয়া ফাইলে ইলন মাস্কের কোনও অপরাধমূলক কাজের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। দেখা গিয়েছে ২০১২ ও ২০১৩ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেল আদান-প্রদান করেছিলেন তিনি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও এসেছে এপস্টেইন ফাইলে। জানা গিয়েছে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮ বার জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রাইভেট জেটে যাত্রা করেছিলেন ট্রাম্প। এ ছাড়াও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে এক কিশোরীকে নাকি ট্রাম্পের রিসর্টে নিয়ে গিয়েছিলেন জেফ্রি এপস্টেইন।
মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও এসেছে এই নথিতে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন গেটস। এ ছাড়াও এই ফাইলে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন যে বিল গেটস রাশিয়ান তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
আমেরিকান প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের নামও রয়েছে এই তালিকায়। সেখানে ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
ইজরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বরাকের নামও এসেছে এই ফাইলে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।
প্রিন্স অ্যন্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনের নামও এসেছে এই এপস্টেইন ফাইলে। একাধিক ইমেলে দেখা গিয়েছে এপস্টেইনকে নিজের ‘পরম বন্ধু’ বলে আখ্যায়িত করেছেন সারা। এ ছাড়াও দেখা গিয়েছে তিনি এপস্টেইনকে বিবাহের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
এপস্টেইন ফাইলে নাম এসেছে ব্রিটেনের রানি ক্যামিলার নামও। প্রায় ৯ বার তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এখানে। যদিও তাঁর সম্পর্কে কোনও অভিযোগ নেই এই ফাইলে।
এই ফাইলে নাম রয়েছে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনেরও। মোট ১৯ বার উল্লিখিত হয়েছে তাঁর নাম। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ নেই।
এই তালিকায় থাকা সবচেয়ে অবাক করা নাম হলেন স্টিফেন হকিং। একটি বৈজ্ঞানিক সফর, একটি ইমেলের কারণেই এই ফাইলে মূলত তাঁর মতো বিশ্ববরেণ্য বৈজ্ঞানিকের নাম এসেছে।