
নয়াদিল্লি: প্যারিস, এথেন্স এবং ব্রাসেলস — তিন শহরের কৃষকরা একযোগে ট্রাক্টর নিয়ে নেমেছেন রাস্তায়। রাজধানী শহরগুলিকে অবরোধ করে রেখেছেন কৃষকরা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় চলছে খণ্ডযুদ্ধ। কিন্তু এমন উন্নত দেশে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণ কী? সহজ কথা বলতে গেলে, উন্নত তিন দেশ — ফ্রান্স, গ্রিস এবং বেলজিয়ামে এখন সংঘাত চলছে কৃষি বনাম শিল্পের। এই দুই পক্ষকে ঘিরে দ্বিবিভক্ত হয়েছে আস্ত ইউরোপ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও ফাটলের লক্ষণ স্পষ্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা, দু’পক্ষেরই রফতানি কমেছে। তাই নিজেদের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে এগিয়ে এসেছে তারা। ইউরোপের হয়ে চুক্তি সই করবে ইউরোপিয়ান কমিশন। লাতিন আমেরিকার হয়ে চুক্তি সই করার কথা মের্কসুর নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ব্লকের, এটি একটি স্প্যানিশ অ্যাক্রোনিম। যার অর্থ হল দক্ষিণের মুক্ত বাজার। এই জোটে রয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে।
এই চুক্তি- স্বাক্ষর ঘিরেই জ্বলছে ইউরোপের একাংশ। চুক্তির মূল কথা, ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে কেনা-বেচা হবে। যার প্রতিবাদে ফ্রান্স, গ্রিস, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার মতো দেশের কৃষকেরা রাস্তায় নেমেছেন। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা লাতিন আমেরিকা থেকে মাংস আর শাক-সবজি যদি বিনা শুল্কে একবার ইউরোপে ঢুকতে শুরু করে, তা হলে তাঁদের রুটি-রুজি নষ্ট হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো আবার এই চুক্তির পক্ষে। গাড়ি-সহ নানা ক্ষেত্রে শিল্পে এদের বাড়তি উত্পাদন হচ্ছে। ভাবনাটা হল, ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট হয়ে গেলে কৃষির ক্ষতি, শিল্পের রফতানি থেকে পুষিয়ে যাবে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে এনিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের সংসদের নিয়ম হল, ইইউ-এর ২৭ দেশের মধ্যে ১৫ দেশের সমর্থন লাগবে। আর এই ১৫ দেশের জনসংখ্যা হতে হবে মোট ২৭ দেশের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ। যারা ভোটে হারবে, তাদের সঙ্গে আগামী দিনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্পর্ক কেমন দাঁড়াবে, সেটাও একটা দেখার মতো বিষয়।