
ঢাকা: আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। শপথ নিচ্ছেন বিএনপি (BNP)-র নির্বাচিত সদস্যরাও। তবে তার আগেই তুমুল বিতর্ক। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এ কথা তারা সাফ জানান। এদিকে, বিএনপি এই কথা বলতেই বেঁকে বসে জামাত (Jamaat-e-Islami)-ও। তারাও জানায়, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা কোনও শপথই নেবে না। জামাতের পাশাপাশি এনসিপি(NCP)-ও সদস্য পদে শপথ নেবে না বলে জানায়। শেষ আপডেট অনুযায়ী, টালবাহানা করলেও, শেষে জামাত ও এনসিপির সদস্যরা সকলেই শপথ নিয়েছেন। তারা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছে।
আজ, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচন করা হয়। এরপরে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হয়। শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
এরপরই বিএনপির সদস্যরা জানিয়েছিলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। প্রথম আলো-র তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার–১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে”। দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন।
প্রসঙ্গত, জুলাই সনদে একাধিক সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, যার মধ্যে অনেক বিধান নিয়েই আপত্তি ছিল বিএনপির। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ বেঁধে দেওয়া- নানা শর্ত নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপির। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জেতায় এই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হওয়ার কথা, কিন্তু বিএনপি আজ শপথ না নেওয়ায় ভবিষ্যতে সংবিধান সংস্কার হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর সংশয় রয়েছে।
এদিকে, বিএনপি এই কথা জানাতেই ফুঁসে ওঠে জামাতও। জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাফ জানান যে বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ না নিলে, তারাও কোনও শপথ নেবেন না। জামায়াত নেতা বলেছেন, যে দুপুর ১২টায় তাঁদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তাঁরা সেখানে যাবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনও শপথ নেবেন না। কারণ তাঁরা মনে করেন, সংস্কার বিহীন সংসদ অর্থহীন।
পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ নেবে না বলে প্রথমে জানায়৷ বিএনপির জয়ী সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। শেষে দেখা যায়, এনসিপির সদস্যরা শপথ নিলেন।