AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

EXPLAINED: নরওয়েতে CIA-র গোপন ক্যাম্পে কেন পেন্টাগন কর্তারা? টার্গেট কি হাভানা সিনড্রোম অস্ত্র?

EXPLAINED: ইরানের সঙ্গে অশান্তির মধ্যেই চলতি মাসে নরওয়েতে ওই অস্ত্র তৈরির ল্যাবে যাতায়াত বেড়েছে মার্কিন গোয়েন্দাদের। জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি খামেনেই-এর সেনার বিরুদ্ধে ডেল্টা ফোর্সের হাতে দেখা যাবে হাভানা সিনড্রোম ওয়েপন?

EXPLAINED: নরওয়েতে CIA-র গোপন ক্যাম্পে কেন পেন্টাগন কর্তারা? টার্গেট কি হাভানা সিনড্রোম অস্ত্র?
প্রতীকী ছবিImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 18, 2026 | 6:06 PM
Share

নরওয়েতে CIA-র গোপন ঘাঁটিতে যাতায়াত বেড়েছে মার্কিন সেনা আধিকারিকদের। পেন্টাগন সূত্রে খবর, হাভানা সিনড্রোম অস্ত্র নিয়ে ফের নড়াচড়া শুরু হয়েছে। মাদুরো মডেলেই কি এবার খামেনেই-অপহরণ পর্ব?

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপারেশন ‘অ্যাবসলিউট রিসলভ’-এ ব্যবহৃত হয় এমন এক মার্কিন অস্ত্র, যা না কেউ আগে দেখেছে? না শুনেছে! AI নির্ভর ‘সনিক সাউন্ড ওয়েভ’ ছুড়তে পারে এই মার্কিন অস্ত্র। নাম- ডিস-কম্বো-বুলেটর। নামটা মার্কিন মিডিয়ার-ই দেওয়া। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তাঁর দুর্গের মতো প্রাসাদ থেকে অপহরণ করে আনতে ডেল্টা ফোর্স এই অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। নিজেই সে কথা সংবাদমাধ্যমে জানান ট্রাম্প। ওই অস্ত্র থেকে এমন তীব্র শব্দ তরঙ্গ বেরোয়, যা কিউবার স্পেশ্যাল ফোর্সকে শুইয়ে দিয়েছিল। রক্তবমি করতে থাকে মাদুরোর প্রহরীরা। তাঁদের নাক-কান থেকে গলগল করে রক্ত বেরোতে থাকে। অবশ হয়ে যায় হাত-পা। মাথা ঘোরে। হুঁশ হারিয়ে ফেলে ভেনেজুয়েলার সেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির লোপেজ অভিযোগ করেন, তাঁর দেশকে কি ট্রাম্প অস্ত্র পরীক্ষার ল্যাব বানাতে চাইছেন? এবার আরও ভয়ঙ্কর, আরও গোপনীয় এক অস্ত্র নিয়ে ফের নড়াচড়া শুরু হয়েছে CIA-তে। নরওয়েতে মার্কিন গোয়েন্দাদের গোপন শিবিরে যাতায়াত বেড়েছে পেন্টাগন কর্তাদের। উঠে আসছে হাভানা সিনড্রোম ডিভাইসের নাম। কী এই অস্ত্র?

হাভানা সিনড্রোম অস্ত্র-

  • নরওয়েতে মার্কিন গোয়েন্দাদের সিক্রেট ওয়েপন ল্যাবে তৈরি
  • হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-র ১০ মিলিয়ন ডলারের গবেষণার ফল
  • এই যন্ত্র থেকে মাইক্রোওয়েভ বা পালস রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বেরোয়
  • আকৃতিতেও ছোট, সহজেই কাঁধের ব্যাগে বয়ে নিয়ে যাওয়া যায়
  • কারও দিকে তাক করে চালালে মুহূর্তে ধরাশায়ী টার্গেট
  • অচল হয়ে যাবে মস্তিষ্ক, টার্গেট পাগলের মতো আচরণ করবে
  • সঙ্গে মাথায় তীব্র যন্ত্রণা, রক্তবমি, হাঁটুতে কমজোরি হবে
  • এই অস্ত্রেরই নাম- হাভানা সিনড্রোম ওয়েপন

শোনা যায়, ২০২৪-এ CIA-র সাহায্যে প্রথমবার এই অস্ত্র বানানোর পর নরওয়েরের-ই এক বৈজ্ঞানিক নিজের উপর সেটি প্রয়োগ করেন। তারপর থেকে ওই বৈজ্ঞানিকের জটিল নিউরোলজিক্যাল বা মস্তিষ্কের বিকৃতি দেখা দেয়। ‘হাভানা সিনড্রোম ওয়েপন’ নিয়ে চূড়ান্ত গোপনীয়তা শুরু তখন থেকেই। ইদানিং নরওয়ের সেই গোপন ল্যাবে ফের যাতায়াত বেড়েছে পেন্টাগনের CIA কর্তাদের। মার্কিন মিডিয়ার একাংশের বক্তব্য, এই অস্ত্র হিউম্যান বায়োলজি-তে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। যা মানবাধিকারের বিরোধী। এই অস্ত্র-ই কি এবার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে মার্কিন সেনা? তার জবাব অবশ্য এখনও মেলেনি। কিন্তু শুধু একজোড়া রণতরী পাঠিয়ে বা যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলে যে তেহরানকে কাবু করা সম্ভব নয়, সেকথা বিলক্ষণ জানেন ট্রাম্প।

খামেনেই বিরোধী অভিযানে ট্রাম্পের বড় বাজি হতে পারে এই হাভানা সিনড্রোম ওয়েপন। বাইডেন জমানার শেষদিকে এই অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল বলে খবর। খরচ প্রাথমিকভাবে ১০ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরে খরচ আরও বাড়ে। ২০১৬-য় কিউবার হাভানায় মার্কিন কূটনীতিবিদ, গোয়েন্দা, সেনা কর্তারা রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেন। মার্কিন প্রশাসন ওই নাম না জানা রোগকে AHI বা ‘অ্যানো-ম্যা-লাস হেলথ ইন্সিডেন্ট’ বলতে শুরু করে। কিউবার পরপরই চিন, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, ভিয়েতনাম এমনকী খোদ মার্কিন মুলুকের অন্দরেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন থেকেই জল্পনা শুরু, এটা কি সত্যি অজানা রোগ নাকি কোনও নতুন রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার ফল? মার্কিন গোয়েন্দারা আঁচ করেন, সম্ভবত রাশিয়া এই ধরনের অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। আর তখনই আমেরিকাও পাল্টা এই হাভানা সিনড্রোম ডিভাইস বানানোর কাজে হাত দেয়। তবে আজও প্রকাশ্যে একথা স্বীকার করেননি কেউ-ই।

সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ইরানের সঙ্গে অশান্তির মধ্যেই চলতি মাসে নরওয়েতে ওই অস্ত্র তৈরির ল্যাবে যাতায়াত বেড়েছে মার্কিন গোয়েন্দাদের। জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি খামেনেই-এর সেনার বিরুদ্ধে ডেল্টা ফোর্সের হাতে দেখা যাবে হাভানা সিনড্রোম ওয়েপন? কিউবান ফোর্সের মতো ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড-ও কি তাতেই কাবু হবে?