
নয়াদিল্লি: মাদার অব অল ডিলস। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য়চুক্তিকে এই নামেই অভিহিত করেছে গোটা বিশ্ব। গত দু’দশকের অপেক্ষা। ট্রাম্প যখন তাঁর শুল্কবাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, সেই তাৎপর্যপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি হল উন্মুক্ত। ভারত-ইউরোপ হয়ে উঠল ‘মুক্তমনা’।
২০০৭ সাল। কেন্দ্রে তখন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। সেই সময় শুরু হয়েছিল আলোচনা। মুক্ত বাণিজ্য়চুক্তি নয়, নাম ছিল বৃহত্তর বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ চুক্তি। ইংরেজিতে ব্রড বেসড ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট। কিন্তু আলোচনা বা সমঝোতা, যাই বলা হোক না কেন, তা মোটেই গতি পায়নি।
২০১৩ সাল স্থগিত হয়ে যায় ভারত-ইউরোপ বাণিজ্য আলোচনা। এরপর বছর ঘুরল। ঘুরে গেল সরকারও। কংগ্রেস নয়, এল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী। এই প্রসঙ্গ একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনমোহন সিংহের জমানার মতোই মোদী জমানাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কূটনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্য়ে। সেই সূত্র ধরে পুনরুদ্ধার হয়েছে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য আলোচনারও।
আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিটি দরজা খুলতে ভারত যে আগ্রহী তা ধরা পড়েছে প্রতিবারই। ২০২১ সাল পর্যন্ত এখনও পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য়িক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়াদিল্লি। যার মধ্য়ে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি একেবারে সর্বেসর্বা। ওই যে বললাম, মাদার অব অল ডিলস।
সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান অ্যান্টোনিও কোস্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠক শেষে ভারতের বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষই সন্তুষ্ট। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। মঙ্গলবার চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে, সে কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আর তেমনটাই হয়েছে। ১৮ বছরের সমঝোতা। অবশেষে চুক্তি ঘোষণা করেছে দুই পক্ষ। ৯৬ শতাংশের অধিক ভারতীয় পণ্য হয়েছে শুল্ক মুক্ত। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, এই চুক্তি সবে ঘোষণা হয়েছে, স্বাক্ষর হয়নি। জানা গিয়েছে, চুক্তির খুঁটিনাটি আইনি সব দিক খতিয়ে দেখে চলতি বছরের শেষেই চুক্তি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবে নয়াদিল্লি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নতুন বাণিজ্য অর্থনীতির বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৭ সাল থেকে।
তবে এই সবটাই তত্ত্ব কথা। খুব সহজ প্রশ্ন যেটা এই মুহূর্তে উঠে আসছে, তা হল এই চুক্তিতে ভারতের লাভ কতটা? কয়েকটি পয়েন্টে গোটা বিষয়টি সহজপাচ্য় করে দেওয়া যাক —