Strait of Hormuz: ফের বন্ধ হরমুজ়,কাছে এলেই বিপদে পড়বে জাহাজ, চরম হুঁশিয়ারি তেহরানের
Iran-US Peace Deal: ইরান জানিয়েছে, শত্রুদের হামলার জবাব দিতে প্রথম পদক্ষেপ করা হয়েছে মাত্র। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। পরবর্তীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) পৃথক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

তেহরান: শেষ হয়েও হইল না শেষ। ইরান-আমেরিকার (Iran-US) চুক্তিপত্রে সইয়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল গোটা বিশ্ব। শেয়ার বাজারও ধীরে ধীরে চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল। হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে যাওয়ায় জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগও কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু,মাত্র দুই দিনের স্বস্তি। আবারও হরমুজ় বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (America) ও ইজ়রায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতর খতম-আল-আনবিয়ার।
ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। উল্লেখ্য, চুক্তি না মেনেই লেবাননের দক্ষিণে হিজ়বুল্লাদের নিশানা করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। তার জবাব দিতেই হরমুজ় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরান জানিয়েছে, শত্রুদের হামলার জবাব দিতে প্রথম পদক্ষেপ করা হয়েছে মাত্র। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। পরবর্তীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) পৃথক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই জলপথের কাছে না যাওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে বিভিন্ন দেশ ও বাণিজ্যিক জাহাজকে। তেহরানের দাবি, সেখানে জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
যদিও, ইরানের দাবির নস্যাৎ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বাস করে যুদ্ধবিরতির চুক্তি বহাল থাকবে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ এখনও তাঁদের হাতে নেই।
সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শীঘ্রই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছতে পারেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত ও অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলও সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
