
তেহরান : হরমুজ় প্রণালী সবার জন্য খোলা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মাঝেই বড় ঘোষণা করে দিল ইরান। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ পার করে গিয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ় বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, হরমুজ় দিয়ে কোনও তেলবাহী জাহাজ গেলে, তা উড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে, হরমুজ়ে জাহাজ চলাচলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল রাশিয়া ও চিনকে। আবার গত কয়েকদিনে হরমুজে পারাপার করেছে ভারতের একাধিক তেল ট্যাঙ্কার। তবে, এবার ইরান জানিয়ে দিল হরমুজ আপাতত খোলাই রয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যান্য দেশের জাহাজগুলির হরমুজ়ে যাতায়াতের অনুমতি রয়েছে। তিনি বলেন,”প্রকৃতপক্ষে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত। কেবল আমাদের শত্রুদের ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যরা স্বাধীনভাবে হরমুজ়ে যাতায়াত করতে পারে।” অর্থাৎ ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, আমেরিকা-ইজ়রায়েলের পাশাপাশি তেহরানের শত্রু দেশগুলির জন্য বন্ধ রয়েছে। ইরানের দাবি, বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ খোলা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে তারা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে না। এই বিষয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী বলেন,”অনেকেই নিরাপত্তার কারণে হরমুজ় ব্যবহার করতে চাইছেন না। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।”
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছ, যে কোনও উপায়ে ইরানের হাত থেকে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করা হবে। তার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলিকে হরমুজে রণতরী পাঠানোর জন্য আহ্বান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ ইরানকে জব্দ করতে মিত্র শক্তির সাহায্য প্রার্থনা করেছেন ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লেখেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধে মূলত যে দেশগুলি ক্ষতিগ্রস্থ, তারা আমেরিকাকে সাহায্য করবে। হরমুজ প্রণালী খুলতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাবে তারা।” ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস করে দিয়েছেন তাঁরা।
কোন দেশগুলি যুদ্ধ জাহাজ পাঠাবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প ? মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাবে চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেন। ট্রাম্পের মতে, এই দেশগুলি হরমুজ বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হয়েছে। তাই, এই দেশগুলি যেন হরমুজে তাদের যুদ্ধ জাহাজ পাঠায়।
প্রসঙ্গত, হরমুজে যাতে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে, তার জন্য গত কয়েকদিন ধরে ইরানের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছে নয়া দিল্লি। কখনও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। কখনও আবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। তারপর থেকেই হরমুজ় পারাপারে ভারতের একের পর এক তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছাড়পত্র পেয়েছে। সম্প্রতি, আরও দু’টি তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ ছাড়পত্র পেয়েছে। জানা গিয়েছে, এলপিজির ভান্ডার নিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে শিবালিক ও নন্দা দেবী নামে দু’টি জাহাজ। প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি রয়েছে ওই দু’টি জাহাজে। জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ মার্চ এবং ১৭ মার্চ পর্যায়ক্রমে ভারতে পৌঁছবে জাহাজ দু’টি।