
তেহরান : ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগেই সুর নরম ইরানের। হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নিজেদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে তেহরান। ইতিমধ্যেই হরমুজ়় দিয়ে ভারতের একাধিক জাহাজ চলাচলে ছাড় দিয়েছে ইরান। এবার সব দেশের জন্য হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান। কিন্তু, ইরান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, শত্রু দেশগুলির জন্য হরমুজ় অবরুদ্ধই থাকবে। অর্থাৎ আমেরিকা বা ইজ়রায়েলকে অনুমতি দেবে না ইরান।
সপ্তাহখানেক আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, অন্যান্য দেশের জাহাজগুলির হরমুজ়ে যাতায়াতের অনুমতি রয়েছে। তিনি বলেন,”প্রকৃতপক্ষে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত। কেবল আমাদের শত্রুদের ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যরা স্বাধীনভাবে হরমুজ়ে যাতায়াত করতে পারে।” বিদেশমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, বাকি দেশগুলির জন্য হরমুজ় খোলা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে তারা হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করছে না। এটা তাদের বিষয়। ইরানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” এরপর হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ইরানকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকা হরমুজ়ে হামলাও করতে পারে বলে খবর ছড়ায়। এই হুমকি, জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ট্রাম্প হুমকি দেয় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ় খুলে না দিলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেবে। এরপরই বিবৃতি দিল ইরান।
কী বিবৃতি দিল ইরান ?
রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থার প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানিয়েছেন, ইরানের শত্রু দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলিকে তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। মুসাভি বলেন,”উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়াতে ইরান সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” তবে তাঁর দাবি,বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হল ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলা। মুসাভি আরও বলেন, “কূটনীতিই ইরানের অগ্রাধিকার। তবে তার জন্য প্রয়োজন আগ্রাসন বন্ধ হওয়া এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হওয়া।”
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও একটা জল্পনা চলছে। সূত্রের খবর, হরমুজ় প্রণালীতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। উপগ্রহ চিত্রে সেরকমই ছবি ধরা পড়েছে। ট্রাম্প এই বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, স্যাটেলাইট ছবি বলছে অন্য কথা। ট্রিপলি নামে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নাকি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ২২০০ মার্কিন সেনা। যদিও, হামলা চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেননি ট্রাম্প।