
ইরান-আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আবহে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হুঁশিয়ারি – পাল্টা হুঁশিয়ারির মাত্রা। ইরানে হামলা হলে মধ্য প্রাচ্যে আমেরিকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগে হামলা চালাবে তেহরান, ফতোয়া মৌলবি জাভেদ আলি আকবরির। এর মধ্যেই আবার সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানাল, তেহরানের মিসাইল হামলার দক্ষতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। কী বিপদ অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের জন্য?
ট্রাম্পের লাগাতার চাপের মুখেও ‘ইরান ঝুঁকেগা নেহি’ মনোভাবে অনড়। এবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়ে দিল, গত এক বছরে তাদের মিসাইলের হামলার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাএই-নিক-এর দাবি, ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। গতবছর থেকেই তেহরান মিসাইল ও ড্রোনের হামলার ক্ষমতা বাড়ানোয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ইরানের ভাণ্ডারে আজ কী আছে, শত্রুরা জানেই না। সঠিক সময়ে আস্তিনের ভিতর থেকে এমন সব অত্যাধুনিক অস্ত্র তেহরান বার করবে, যেটা শত্রুদের চমকে কিস্তিমাত করে দেবে। এমনকী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নাম না করে ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখপাত্রের হুঁশিয়ারি- কোনও আগ্রাসন দেখালে ইরানের আশেপাশে যত মার্কিন সেনাঘাঁটি বা সম্পত্তি রয়েছে– একযোগে সব গুঁড়িয়ে দেবে ইরানি মিসাইল।
ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ইজরায়েল যুদ্ধের পর ইরান বুঝেছে, জিততে হলে দূরপাল্লার মিসাইলের হামলার দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধকে ‘গেমচেঞ্জার‘ বলে দাবি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এখন ইরান শুধু হামলার মিসাইল-ই নয়, ডিফেন্স সিস্টেমের মিসাইলগুলিকেও ঢেলে সাজিয়েছে। প্রতিটি মিসাইলের দক্ষতা যুদ্ধের মহড়াও চালিয়ে দেখে নিয়েছে ইরান। তবে ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাদের গোপনীয়তা, দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের। শত্রুরা হামলা চালানোর আগে জানবেই না তাদের জন্য প্রত্যাঘাতে কী অপেক্ষা করছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা জানিয়েছেন,
তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ ‘সিআইএ’ এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছে ইরানের সদ্য পরীক্ষা করা দুটি নয়া ‘আইসিবিএম’ নিয়ে। প্রথমটি শাহাব ৬, হামলা করতে পারে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে। দ্বিতীয়টি খোরামশহর ৫- পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারেও বেশি। ইরানের দাবি, এই জোড়া মিসাইল আমেরিকার বুকে এমন ক্ষত তৈরি করবে যা ওয়াশিংটন ভাবতেও পারবে না। ইরানি পার্লামেন্ট ‘মজলিস’-এর প্রবীণ সদস্য মহসিন জাঙ্গানেহ বলেছেন, শাহাব-৬ যেদিন যেদিন পরীক্ষা করা হয়েছে সেদিন রাতেই সূর্যোদয় টের পেয়েছেন ইরানিরা। এমনই মিসাইলের তেজ!
অন্যদিকে, খোরামশহর ৫ ইরানের সবচেয়ে আধুনিক ও ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র। যার পরীক্ষাও সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই জোড়া মিসাইল যদি সত্যিই ইরান বানিয়ে ফেলে, তাহলে তেহরানে বসেই ওয়াশিংটন এমনকী নিউ ইয়র্কেরও একটা বড় অংশে হামলা চালানো যাবে। এছাড়াও ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, তেল অভিভ-ও ইরানি মিসাইলের পাল্লার মধ্যে চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আশঙ্কা থেকেই মার্কিন নৌসেনার সবচেয়ে বড় পরমাণু জ্বালানি চালিত USS Abraham Lincoln রণতরী ইরানের দিকে পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এই রণতরীতে এফ-৩৫-এর মতো অন্তত ৮০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়াও টোমাহক মিসাইল বহনকারী USS Michael Murphy ও USS Frank E. Petersen Jr. – রণতরীও এখন ইরান-মুখী। ইরানের মিসাইল আটকাতে আমেরিকা ও ইরানের আশেপাশে সব মার্কিন সেনাঘাঁটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ‘প্যাট্রিয়ট -৩’ মিসাইলকে মোতায়েন রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে ইরান ও আমেরিকা — দুপক্ষই এখন রনং দেহি মেজাজে।