
তেহরান : আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র। ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ অভিযানের প্রত্যাঘাত স্বরূপ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায় তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ওমান, বাহরিন… মুহুর্মুহু ইরানি মিসাইলে কেঁপে উঠেছে। তবে,এবার থেকে আর প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না ইরান। সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে হামলা চালানো উচিত হয়নি। এর জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ কেন সুর নরম করল তেহরান?
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর আক্রমণ স্থগিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই রাষ্ট্রগুলি যদি ইরানে হামলা না চালায়, তাহলে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বিরত থাকবে। এরপরই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন,“আমি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চাইছি। অন্য দেশগুলির উপর আক্রমণের কোনও ইচ্ছা ছিল না আমাদের।” এরপর তাদের উপর আর কোনও হামলা না হলে, তাহলেও তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর।
শনিবার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কখন যুদ্ধ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন তিনি। তবে, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করবে না। পেজেশকিয়ান জানান, এই ধরনের প্রত্যাশা অবাস্তব। ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন তাঁদের স্বপ্নই থেকে যাবে।
পশ্চিম এশিয়ার প্রায় ১০টি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। সম্প্রতি, ইরানে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয় সৌদি আরব। ইরান যদি হামলা থেকে বিরত না থাকে, তাহলে তারা কড়া পদক্ষেপ করবে। তারা আশা রাখছে, ইরান বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। কোনও ভুল করা থেকে বিরত থাকবে। এরপরই সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে সাহায্যের আশ্বাস দেয় পাকিস্তান।
সৌদি আরবের হুঁশিয়ারির পরই কি সুর নরম করল তেহরান? ইজ়রায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় এমনিতেই জর্জরিত ইরান। হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তারই মধ্যে যদি সৌদি আরবের সঙ্গে আরও দেশ হামলা চালায়, তাহলে তা প্রত্যাঘাত করার ক্ষমতা হয়ত থাকবে না ইরানের। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।