
তেহরান : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ। যে কোনও মুহূর্তে ইরানের উপর হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরান উপকূলের কাছে ইতিমধ্যেই নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এই আবহে নিজেদের শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত তেহরান। সূত্রের খবর, গোপনেই চিন, রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষেপনাস্ত্র কেনার চুক্তি সেরে ফেলছে তেহরান । আমেরিকার হুমকির মাঝেই চিন, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াচ্ছে ইরান। দুই দেশ থেকেই প্রচুর পরিমাণে মিসাইল কিনে ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে খামেইনের দেশ। আমেরিকার সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই ইরানের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের সঙ্গে একটি চুক্তি সেরে ফেলার বিষয়ে অনেকটাই কথা এগিয়ে ফেলেছে তেহরান । চিনের থেকে যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য একটি চুক্তি সই করতে চলেছে ইরান। মূলত এই ক্ষেপণাস্ত্র হেলায় গুঁড়িয়ে দিতে পারে যুদ্ধজাহাজ। এবার সেটাই কিনতে চলেছে ইরান। সূত্রের খবর, চিনের তৈরি CM-302 ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তিটি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। প্রসঙ্গত, প্রায় বছর দুয়েক আগে জুন মাসে ইজ়রায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য চিনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিনে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করেন। যার মধ্যে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসুদ ওরাইও ছিলেন বলে খবর।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গেও একটি চুক্তি সেরে ফেলেছে ইরান। সূত্রের খবর, রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক মিশাইল কেনার চুক্তি সেরে ফেলেছে খামেইনের দেশ। জানা গিয়েছে, এর ফলে বিপুল পরিমাণে মিসাইল কিনতে চলেছে ইরান । গোপনে মস্কোতে গিয়ে চুক্তি সেরে আসেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকরা। রাশিয়ার থেকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে অত্যাধুনিক শোল্ডার ফারার্ড কিনতে চলেছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপনাস্ত্র কেনার আবেদন জানিয়েছিল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের মাঝে রাশিয়া-চিনের সঙ্গে ইরানের এই চুক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধি প্রোগ্রাম নিয়ে বারবার আপত্তি তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে কয়েকদিন আগেই একটি মার্কিন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম লিডারকে খুনের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যদি পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আমেরিকার কথা না মানে ইরান, তাহলে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই ও তাঁর ছেলে মোজতাবাকে খুন করা হতে পারে।