Iran-US Truce Talk Explained: শর্ত ইরানের, ট্রাম্প খুশি প্রচুর টাকার ‘গিফট’ পেয়ে, কী আসলে এই উপহার?

Donald Trump: যুদ্ধ আবহেই হঠাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলার ডেডলাইন ৪৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৫ দিন করেন। সিদ্ধান্ত নেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে আলোচনায় বসার। যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের বৈঠকে কারা প্রতিনিধিত্ব করেছে, সে বিষয়ে কিছু এখনও জানা যায়নি।

Iran-US Truce Talk Explained: শর্ত ইরানের, ট্রাম্প খুশি প্রচুর টাকার গিফট পেয়ে, কী আসলে এই উপহার?
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: PTI

|

Mar 25, 2026 | 9:23 AM

ওয়াশিংটন: অবশেষে আশার আলো দেখা গেল ইরান-আমেরিকা সংঘাতের। যুদ্ধ থামাতে রাজি দুই পক্ষ। তবে রয়েছে শর্তের পাহাড়। এই আলোচনা কতদূর এগোয়, আদৌ যুদ্ধ থামবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান আমেরিকাকে বিপুল অঙ্কের এক উপহার দিয়েছে। কী এই উপহার? তা খোলসা করে বলেননি ট্রাম্প, শুধু বলেছেন এটা হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে ইরানও আমেরিকার কাছে শর্ত রেখেছে। তারা চায়, মধ্য প্রাচ্য আমেরিকার সমস্ত ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে হবে। দুই দেশ কি এই শর্তে রাজি হবে? ইজরায়েল আবার রয়েছে অন্য চিন্তায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত শুরুর পরই তেল ও জ্বালানি রফতানির গুরুত্বপূর্ণ রুট বন্ধ করে দেয় ইরান। এর জেরে বিপদে পড়ে গোটা বিশ্ব। হু হু করে বাড়তে থাকে গ্যাস ও তেলের দাম। পরে যদিও ভারত সহ একাধিক দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দিয়েছে ইরান। তার বদলে নিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।

যুদ্ধ আবহেই হঠাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলার ডেডলাইন ৪৮ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৫ দিন করেন। সিদ্ধান্ত নেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে আলোচনায় বসার। যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের বৈঠকে কারা প্রতিনিধিত্ব করেছে, সে বিষয়ে কিছু এখনও জানা যায়নি। কারণ আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় প্রথমদিনেই মৃত্যু হয় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। তাঁর উত্তরসূরী মোজতাবা খামেনেইকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাই কারা কথা বলেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। উল্টে ইরান দাবি করেছে যে তারা কোনও আলোচনায় সামিলই হয়নি।

ট্রাম্প কী বলেছেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওরা গতকাল অসাধারণ একটা কাজ করেছে। ওরা আমাদের উপহার দিয়েছে আর সেই উপহার আজ এসে পৌঁছেছে। এটা বিরাট বড় উপহার, যার মূল্য অনেক। আমি আপনাদের বলব না যে উপহারটি কী, কিন্তু এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটা উপহার। এর একটাই অর্থ-আমরা সঠিক লোকজনদের সঙ্গে কথা বলছি।”

ট্রাম্প নিজেই জানান যে উপহারের কথা তিনি বলছেন, তা হরমুজ প্রণালী ও তেল সরবরাহ সম্পর্কিত। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আপত্তি ছিল আমেরিকার, সেই সম্পর্কিত এই উপহার না হলেও, ট্রাম্পের দাবি, ইরান নাকি কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার কথা দিয়েছে।

ইরানের দাবি-

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ইরান দাবি করেছে যে মধ্য প্রাচ্যে আমেরিকার যতগুলি সেনাঘাঁটি রয়েছে, তা বন্ধ করে দিতে হবে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমানোর পাশাপাশি এতদিন আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিসাইল হামলায় দেশজুড়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মার্কিন আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এই দাবিকে অবাস্তব বলতে শুরু করেছেন।

দুই দেশই নিজেদের শর্ত থেকে পিছু হটতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি আদৌ হয় কি না, যুদ্ধ থামে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান নাকি ইরান-আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর কাজ করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পোস্ট রি-শেয়ার করায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। এদিকে, ইজরায়েল, যারা এতদিন ধরে আমেরিকাকে যুদ্ধে মদত দিচ্ছে, তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প হয়তো অসম্পূর্ণ চুক্তি গ্রহণ করে নেবেন। এতে আখেরে ক্ষতিই হবে।

Follow Us