
ইসলামাবাদ: হামলা করল লস্কর। ফল ভুগতে হল জইশদের। পহেলগাঁওয়ের হামলাকে কেন্দ্র করে ‘পুরনো বদলা’ নিয়ে নিল ভারত। দেখল না পরিচয়। সমস্ত জঙ্গিদের ফেলে দিল মৃত্যু ফাঁদে। বুধবার মধ্য়রাতে মূলত দু’টি বিশেষ জোর দিয়ে প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ুসেনা। একটি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বাহওয়ালাপুর, অন্যটি পাক আওতাধীন আজ়াদ কাশ্মীরের কুটলিতে।
এই বাহওয়ালপুরে আক্রমণের মূল কারণই ছিল মাসুদ আজহার ও তার জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। ২০০১ সালে ভারতের সংসদে আক্রমণ ও ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী এই মাসুদ আজহার। সে বাহওয়ালপুরের ভূমিষ্ঠপুত্রে। সেখান থেকেই চলে তার জঙ্গি অপারেশন। সেই সূত্র ধরেই ওই এলাকাতেই রয়েছে জইশ গোষ্ঠীর সদর দফতর। জানা গিয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনা বোমায় আপাতত ধূলিসাৎ হয়েছে মাসুদের প্রিয় দফতরটা। কিন্তু মাসুদ, সে কি বেঁচে রয়েছে? এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন এটাই। ভারত প্রত্যাঘাত করেছে এবং বেছে বেছে মাসুদের ডেরাতেও বোমা ফেলে এসেছে।
ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যম জুড়ে ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিয়ো। যেখানে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানি এক যুবক মাসুদের মাদ্রাসার উপর হওয়া হামলার কথা বলছেন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের বাহওয়ালপুর শহরে মৌলানা মাসুদ আজহারের মাদ্রাসায় পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। আমরা আমাদের সেনার পাশে আছি। কিন্তু আমার একটাই প্রশ্ন, আমাদের এজেন্সিরা কী করছে? তারা কি ঘুমোচ্ছে? মুজাফফরাবাদেও শুনলাম মিসাইল পড়েছে।’
এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই আবার মাথা চাড়া দিয়েছে একটাই প্রশ্নের। বাছাই করে যখন মাসুদের ঘরে বোমা ফেলল ভারত। তবে কি তার সংগঠনের মেরুদণ্ড ভাঙার পাশাপাশি, তাঁকেও মারতে পেরেছে কিনা? একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষবার ২০২৪ সালে বাহওয়ালপুরেরই একটি বিয়ে বাড়িতে কাশ্মীর ও প্যালেস্তাইন নিয়ে ভাষণ দিতে গিয়েছিলেন মাসুদ। সেই শেষ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকে ফের গা ঢাকা দেয় সে। শোনা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কানে নিজের জন্মস্থানেই ছিলেন মাসুদ। এবার সেখানেই বোমা ফেলল ভারত। তবে কি আর বেঁচে নেই এই জঙ্গি নেতা? নাকি আবারও ছলে-বলে-কৌশলে আগেই নিষ্ক্রমণ করেছিল সে? উত্তর অধরা।