Donald Trump:ইরানে পরমাণু বোমা ফেলতে চায় ইজরায়েল! আসরে নামতে বাধ্য হন ট্রাম্প?

ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে আমেরিকার বোমাবর্ষণের নেপথ্যে কি ইজরায়েলের প্রবল চাপ? এই প্রশ্ন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক ও ট্রাম্পের প্রাক্তন পরামর্শদাতা দাবি, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি হুমকি দিয়েই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য বাধ্য করেন।

Donald Trump:ইরানে পরমাণু বোমা ফেলতে চায় ইজরায়েল! আসরে নামতে বাধ্য হন ট্রাম্প?

| Edited By: Purvi Ghosh

Jan 19, 2026 | 7:23 PM

‘ইরানে বোমাবর্ষণ করুন। মাটির নিচের পরমাণু কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিন। নইলে আমরা পরমাণু বোমা ফেলব।’ নেতানিয়াহুর এই চাপের মুখেই কি নতিস্বীকার করলেন ট্রাম্প? ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে বোমাবাজির নেপথ্যে কি তেল অভিভ? প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা ও ট্রাম্পের পরামর্শদাতার দাবিতে শোরগোল।

‘ইরানে বোমা ফেলতে হবে। ধ্বংস করতে হবে ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। আমেরিকা বোমা না ফেললে ইজরায়েল পরমাণু বোমা ফেলবে।’ ঠিক এই ভাষাতেই নাকি তেহরানের উপর বোমাবর্ষণ করতে ট্রাম্পকে চাপ দেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অবশ্য শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নয়, তাঁর পূর্বসূরীদেরও নাকি বছরের পর বছর ধরে ইরানে বোমা ফেলতে চাপ দিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। সে যে প্রধানমন্ত্রীই ইজরায়েলের ক্ষমতায় থাকুন না কেন! তবে তেল অভিভ সবথেকে বড় হুমকিটা দেয় ২০২৫-এর জুনে। নেতানিয়াহু নাকি ট্রাম্পকে সরাসরি বলেই বসেন, ‘পাহাড়ের কোলে ইরানি পরমাণু ঘাঁটিতে বোমা ফেলুক আমেরিকা। নইলে ইজরায়েল কিন্তু পরমাণু বোমা ফেলবে। ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। এখনই আমেরিকা পদক্ষেপ না করলে তেল অভিভ করবে। ইজরায়েল-ই পরমাণু বোমা ফেলবে ইরানে।‘ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আটকাতে ট্রাম্প ইরানে বোমা ফেলেন।

ইজরায়েলি চাপের কাছে নতিস্বীকার করে ২০২৫-এর ২২ জুন ইরানের পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রে অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’ চালায় ওয়াশিংটন। সাতটি বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান অন্তত ১৪টি জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে ফোরদো, নাতানজ পরমাণু ঘাঁটিতে। আরেক ঘাঁটি ইসফাহানকে নিশানা করা হয় সাবমেরিন থেকে টোমাহক মিসাইল দিয়ে। ইরানের এই তিনটি গবেষণা কেন্দ্রই মাটির এত গভীরে যে ইজরায়েলি বায়ুসেনা, বোমা ফেলেও ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করতে পারছিল না। শেষমেশ আমেরিকাকে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে টেনে আনেন নেতানিয়াহু। প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা (former CIA officer and whistleblower) জন কিরিয়াহকু তাঁর এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর ইজরায়েলের এই পাহাড়প্রমাণ চাপের সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্পকে একা নয়, তাঁর পূর্বসূরীদেরদেরও নাকি ইজরায়েল একইরকম চাপ দিয়ে গেছে। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকেও ইরানে বোমা ফেলতে চাপ দিয়ে গেছে ইজরায়েল, দাবি প্রাক্তন CIA অফিসারের। আমেরিকার ৪১-তম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াকার বুশ ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত ওভাল অফিসে ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট বুশ ইজরায়েলি চাপের মুখে নতিস্বীকার না করলেও এবারে ট্রাম্প ভেঙে পড়েন। কারণ, এবার ইজরায়েল পরমাণু বোমা হামলার হুমকি দেয়। এমনিতে তাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকার দাবি প্রকাশ্যে না মানলেও ইজরায়েলের ভাণ্ডারে ৯০-টিরও বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে বলে অনুমান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস্ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ( Stockholm International Peace Research Institute or SIPRI) বা সিপরি-র। ইজরায়েল তাদের পরমাণু বোমার ভাণ্ডার ইরানের উপর খালি করতে তৈরি বলে ট্রাম্পকে জানান নেতানিয়াহু। ট্রাম্পকে তাঁর পরামর্শদাতারা জানান, এমনটা হলে যে কোনও মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। তড়িঘড়ি অপারেশনে সবুজ সঙ্কেত দেন ট্রাম্প। গতবছরের জুনের পর এখন ঠিক একইরকম পরিস্থিতি আবার দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে। ইরান ও আমেরিকা– দুই দেশ-ই একে অপরকে লাগাতার হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনাচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল।