
মস্কো: যুদ্ধ শুরু করার কড়া মাশুল চোকাতে হচ্ছে রাশিয়া(Russia)-কে। একে একে সমস্ত পরিষেবাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশে। সম্প্রতিই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ভিসা-মাস্টারকার্ড(Visa-Mastercard)-র মতো আর্থিক পরিষেবা। পাততাড়ি গুটিয়েছে নেটফ্লিক্স(Netflix)-র মতো বিনোদন মাধ্যমও। এবার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ড(McDonald)-ও রাশিয়ায় নিজেদের পরিষেবা বন্ধ করতে চলেছে। এই খবর পাওয়ার পরই লম্বা লাইন পড়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন ম্যাকডেনাল্ডের দোকানের বাইরে। ড্রাইভ-থ্রু দোকানগুলির বাইরে প্রায় কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন পড়ে। রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও রাশিয়ার বাসিন্দারা শেষবারের মতো বার্গার, ফ্রাইয়ের স্বাদ নিলেন। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মি়ডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়ো(Viral Video)।
সোমবারই রাশিয়ার সাধারণ মানুষ জানতে পারেন, বাকি মার্কিনী সংস্থাগুলির মতো ম্যাকডোনাল্ডও রাশিয়ায় তাদের সমস্ত দোকান বন্ধ করতে চলেছে। কারণ একটাই, বিনা প্ররোচনায় ইউক্রেনের উপরে হামলা চালানো। এই খবর পাওয়া মাত্রই মস্কোর বাসিন্দারা আশেপাশের ম্যাকডোনাল্ডের দোকানে ছোটেন। সাধ্যমতো যথাসম্ভব বেশি খাবারের অর্ডার দেন। রাত গড়াতে গড়াতে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে এক একটি ড্রাইভ-থ্রু আউটলেটের বাইরে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির লম্বা লাইন দেখা যায়।
তবে শুধুমাত্র ম্যাকডোনাল্ডই নয়, স্টারবাকস, কোকাকোলা, পেপসিকোর মতো বিশ্বের বড় বড় ব্রান্ড, যা মূলত আমেরিকার মালিকানাতেই রয়েছে, তারা সকলেই রাশিয়ায় নিজেদদের পণ্যের পরিষেবা বন্ধের কথা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবারই সবকটি সংস্থার তরফে জানানো হয়, ইউক্রেনের প্রতি রাশিয়া যেভাবে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছে এবং বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়েছে, তার সমালোচনা করেই আপাতত রাশিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ম্যাকডোনাল্ডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্রিস কেম্পজ়িনস্কি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখে বলেন, “আমাদের মূল্যবোধ বলে যে ইউক্রেনে নিরাপরাধ সাধারণ মানুষেরা কষ্ট ভোগ করছেন, তা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। সেই কারণেই দেশজুড়ে ৮৫০টি দোকানই সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কবে দোকান খোলা হবে, তাও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে রাশিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডের যে ৬২ হাজার কর্মচারী রয়েছে, তাদের বেতন দেওয়া হবে নিয়মিত।”
গত সপ্তাহের শুক্রবার স্টারবাকস সংস্থার তরফেও জানানো হয়, রাশিয়ায় তাদের যে ১৩০ টি দোকান রয়েছে, তাতে যে অর্ত লাভ হবে, তা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জন্য দান করে দেওয়া হবে। সংস্থার ২ হাজার কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হলেও, সাময়িকভাবে সমস্ত দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
কোকাকোলাও একইভাবে রাশিয়ায় নিজেদের পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোপসিকো ও জেনারেল ইলেকট্রিকের তরফেও আপাতত রাশিয়ায় নিজেদের নব্যবসা বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে।