
ওয়াশিংটন: তিনি নাকি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। তাঁর শখ পূরণ করলেন ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মারিনা কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। হাসি মুখে সেই পুরস্কার গ্রহণও করেছেন ট্রাম্প। তবে সত্যিই কি নোবেল পুরস্কার এভাবে হস্তান্তরিত করা যায়?
হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের হাতে নোবেল দিয়ে এসেছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। হাতে নোবেল পেয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নজির এটা”। মাচাদোর যুক্তি, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন, তাই তিনি এই নোবেল পুরস্কার দিয়ে এসেছেন। মাচাদো যতই নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিক না কেন, নোবেল কমিটি কিন্তু বলছে যে এভাবে অন্য কাউকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া যায় না কিংবা নোবেল পুরস্কার ভাগও করা যায় না।
মাচাদো আগেই যখন ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখনই নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনেকটা পাথরে লেখার মতো। একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হয়ে গেলে তা যেমন প্রত্যাহার করা যায় না, তেমনই তা অন্য কারোর সঙ্গে ভাগ করা বা হস্তান্তরিত করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত সর্বকালের। মেডেলের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু কারোর নাম একবার ঘোষিত হয়ে গেলে, তার নামের পাশ থেকে নোবেলজয়ী শব্দটি আর সরানো যায় না।
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরানো ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার হস্তান্তরের জন্য ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন মাচাদো।
১৯৬ গ্রামের নোবেলের উপরে সোনার পাত মোড়ানো থাকে। নোবেলের এক পিঠে আলফ্রেড নোবেলের মুখের অবয়ব থাকে, অন্য পিঠে তিনজন নগ্ন ব্যক্তি একে অপরের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, এমন ছবি থাকে। বিগত ১২০ বছর ধরে নোবেল অপরিবর্তিতই রয়েছে।