Imran Khan: পাকিস্তানে গণতন্ত্রের হত্যা? ইমরানের দলকে নিশ্চিহ্ন করার পথে শরিফ সরকার
Imran Khan: পাকিস্তানে কি গণতন্ত্র একেবারে উঠে যেতে চলেছে? বিরোধী শূন্য দেশ গড়তে চাইছে শেহবাজ শরিফ সরকার। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইমরান খানকে জেলবন্দি করার পর, তাঁর দলকেও নিশ্চিহ্ন করার পথে পাক সরকার। পিছনে সেনার হাত?

ইসলামাবাদ: কারাবন্দী পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এই অবস্থায় তাঁর দল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান সরকার। পাক সংবাদপত্র ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার (১৫ জুলাই), পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এদিন জানিয়েছেন, ইমরান খানের দল রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে, রাজনৈতিক দল হিসাবে পিটিআই-এর মর্যাদা নিশ্চিত করেছিল। আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সেই রায়ের বিরুদ্ধে পাক শীর্ষ আদালতে একটি পর্যালোচনার আবেদন করবে শেহবাজ শরিফ সরকার। একের পর এক মামলার জালে জড়িয়ে প্রথমে ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি করা। তাঁর দলকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে দেওয়া। এবার পিটিআই-কে সরাসরি নিষিদ্ধ করা। একের পর এক এই পদক্ষেপগুলির পিছনে পাকিস্তান সেনার হাত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিন, ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আতাউল্লাহ তারার বলেন, “পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলকে নিষিদ্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। আমরা মনে করি, পিটিআইকে নিষিদ্ধ করার মতো আমাদের হাতে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে তিনি রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস করা এবং দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাক তথ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, “পিটিআই এবং পাকিস্তান একসঙ্গে থাকতে পারে না।” কোন রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত ছিল পিটিআই? আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি বানচাল করার চেষ্টা করেছিলেন পিটিআই নেতারা। আর ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই পিটিআই-কে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
ইমরান খানকে বেশ কয়েকটি মামলার জালে জড়িয়ে ফেলেছে পাক সরকার। গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি কারাগারে বন্দি আছেন। ইমরানের অভিযোগ, পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাতে তিনি আর ফিরতে না পারেন, তার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে মামলার জাল সাজানো হয়েছে। তবে, গত সপ্তাহে পাক আদালত এমন কিছু রায় দিয়েছে, যার সবকটিই প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ছিল। গত সপ্তাহে ইমরান খানের পিটিআই-কে রাজনৈতিক দলের মর্যাদা দিয়ে পাক পার্লামেন্টে ২০টি সংরক্ষিত আসন মঞ্জুর করেছে পাক সুপ্রিম কোর্ট। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পিটিআই, রাজনৈতিক দল হিসেবে লড়তে পারেনি। দলের প্রার্থীরা নির্দল হিসেবে লড়েছিলেন। পাক সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলি তাদের জেতা আসনের প্রেক্ষিতে, সংসদে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলি পায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে লড়তে না পারায়, এই আসনগুলি পাচ্ছিল না পিটিআই।
এছাড়া, ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি, ইসলামিক আইন লঙ্ঘন করে বিবাহ করেছিলেন বলেও শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল ইমরান ও তাঁর স্ত্রীর। শনিবার, সেই অবৈধ বিবাহের রায়ও বাতিল করেছে পাক শীর্ষ আদালত। তবে, এখনও ইমরান দাঙ্গা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে জেলেই আছেন। এই রায়গুলি আসার কয়েকদিনের মধ্যেই ইমরানের দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নি পাক সরকার।
