
নয়া দিল্লি : সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের প্রধানের মধ্যে বৈঠকের পর মোদী জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে এক উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটা বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু চুক্তিও সাক্ষর হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। উল্লেখ্য, চারদিনের ভারত সফরে এসেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। রবিবারই স্ত্রীর সঙ্গে ভারতে পৌঁছন তিনি। এদিকে, রবিবারই ইজ়রায়েল সফর শেষে ভারতে ফেরেন নরেন্দ্র মোদী। তারপর আজ, কার্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদী।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদী ও মার্ক কার্নি। সেখান থেকেই মোদী বলেন,” প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। আমরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছি। গত বছর কানাডায় জি৭ সম্মেলনে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন কার্নি। আজও একই উষ্ণতার সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাতে পারা আমার সৌভাগ্যের। আমরা অংশীদার।” এরপরই মোদীর ঘোষণা, “আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।” অর্থাৎ ৫ হাজার কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে তিনটি মউ চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। মোদী ঘোষণা করেছেন, কানাডা আন্তর্জাতিক সোলার ও জৈব জ্বালানির আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেবেন। একটি দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে সহযোগিতার জন্য দুই দেশ একটি চুক্তি সই করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সাক্ষর হয়েছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ এবং স্টার্টআপের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন। সম্প্রতি, দিল্লিতে এআই সামিটে কানাডার ভূমিকা নিয়েও কানাডার আবদানের কথা উল্লেখ করেছেন মোদী।
প্রসঙ্গত, খালিস্তানি নেতা হরদ্বীপ সিং নিজ্জরের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-কানাডার মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছয়। দুই দেশের মধ্যে আগেও বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। তবে, ২০২৩ সালে তা বন্ধ করে দেয় কানাডা। তবে, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে কার্নি।