
ঢাকা: মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় হাসিনাকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু হাসিনা-হীন বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তা নিয়ে প্রশাসনের কী মত? নৈরাজ্য-নাশকতা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। চলছে হিন্দু-নিধন। এই ছবি কি মানবাধিকার-বিরোধী নয়? প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার একটি অডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লিগের নেতা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, সকলের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা চলছে। আমি নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছি। কিন্তু আজ বাংলাদেশে যা চলছে, প্রতি মুহূর্তে হত্যা, মামলা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতিতে মানুষ দিশেহারা। জীবন ছাড়খাড় করে দিচ্ছে। এগুলি কি মানবতা রক্ষা করা?’
নিজের এই অডিয়ো বার্তায় ইউনূসকে ‘রক্তচোষা’ বলে কটাক্ষ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের আসল রূপ বাংলাদেশ দেখে নিয়েছে। হাসিনার সংযোজন, ‘গরিবের রক্ত চুষে খেয়েছে। বাংলাদেশে একটা টাকা বিনিয়োগ করেনি। নিজে সম্পদের পাহাড় করেছে। এখন ক্ষমতা ডাকাতি করে নিয়েছে।’ ইউনূস নির্বাচিত নন, মনোনীত — সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়েছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, ‘লাশের উপর পা রেখেই ক্ষমতার শীর্ষে বসেছেন ইউনূস। ছাত্রদের তো সব দাবি মেনে নিয়েছিলাম। আমি সব দলকে সতর্ক করেছিলাম। এটা কোটা আন্দোলন নয়, বরং সরকারকে ফেলে দেওয়ার আন্দোলন।’
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে সরকার পতনের দিন। সেদিন হাসিনা কিন্তু নিজে থেকেই সব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, তার আগে সেই ৫ অগস্টের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। ভারত নয়, বরং টুঙ্গিপাড়ায় ফেরার কথা ভেবেছিলেন হাসিনা। এদিন তিনি বলেন, ‘আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে চাইনি। ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়া চলে যাব। কিন্তু আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে থাকা অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমি ইউনূসকে বলতে চাই, এক মাঘে শীত যায় না। আমি নিশ্চই ফিরব, খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে।’